শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

জোবাইদা কি জানত সেদিন তার শেষ স্কুল

প্রতিনিধি, আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ১০:৫৭ পিএম

জোবাইদা কি জানত সেদিন তার শেষ স্কুল দুর্ঘটনায় নিহত জোবাইদা আকতার

দরিদ্রতার কষাঘাত জয় করে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন ছিল জোবাইদা আকতারের। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে জেতা হলো না। স্কুলের রাস্তায় দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হওয়ার পর ৫৪ ঘন্টার লড়াইয়ে থেমে গেছে তার জীবনপ্রদীপ। জোবাইদার সহপাঠিসহ স্কুলের সবার কাছে দিনটি এক দু:স্বপ্ন। কেউ ভাবতে পারছে না স্বপ্ন পূরণের আগেই একটি দুর্ঘটনা লন্ডভন্ড করে দিতে পারে সবকিছু ! 

শনিবার সকালে আনোয়ারা উপজেলার কৈখাইন গ্রামের বাড়ি থেকে আরো দুই সহপাঠিসহ পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবাইদা। বিদ্যালয়ের কাছে ছত্তারহাট-কালিগঞ্জ সড়কের জ্বালাকুমারী মন্দির মোড়ে একটি সিএনজি টেক্সি তাদের ধাক্কা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি টেক্সি আরেকটি টেক্সিকে ওভারটেক করতে গিয়ে তিন স্কুল ছাত্রীকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই শিক্ষার্থী সামান্য আঘাত পেলেও জোবাইদার মাথার পেছন দিকে মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার হাসপাতালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দুই দিন চলে গ অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত সোমবার থেমে যায় জোবাইদার জীবন-মৃত্যুর সংগ্রাম। বিকাল চারটার দিকে হার মানে মৃত্যুর কাছে।

তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে জাইদা সবার বড়। তার বাবা নুরুল আমি রাঙামাটিতে নৌকা মেরামতে কাজ করে। অভাবের সংসারে লেখাপড়া করে পরিবারে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। সোমবার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছার পর পুরো এলাকায় ছিল শোকাবহ পরিবেশ।  এমন মৃত্যু যেন কেউ মানতে পারছিলেন না।

এদিকে দুর্ঘটনায় জড়িতে টেক্সি চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার মানবন্ধন করে পরৈকোড়া নয়নতারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মামুুনুর রশীদ চৌধুরী আশরাফ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার নন্দী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মামুন, আওয়ামীলীগ নেতা আজিজুল হক বাবুল এনামুল হক পৃথক বিবৃতিতে মর্মান্তির এই মৃত্যুতে গভীর শোক জানান ও দুর্ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবি জানান।