শনিবার, ২৫ মে ২০১৯

আনোয়ারায় রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের রুগ্নদশায় বিস্মিত ম্যাজিস্ট্রেট

প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৯:০৭ এএম

আনোয়ারায় রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের রুগ্নদশায় বিস্মিত ম্যাজিস্ট্রেট

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সাইনিং ডায়গনোস্টিক সেন্টার। রোগ নিরূপনে অনেকের ভরসা এই প্যাথলজিতে নেই কোন শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। ঔষধ রাখার জন্য রেফ্রিজারেটর থাকলেও তাতে ছিল না বিদ্যুৎ সংযোগ। নেই কোন প্যাথলজিস্ট। এমন আজগুবি রোগ নিরুপনি কেন্দ্র দেখে বিস্মিত ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্টেট।

বুধবার বিকালে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জোবায়ের আনোয়ারা হাসপাতালের সামনে একটি ডায়গনোস্টিক সেন্টার ও ৫ ঔষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদিত, বিক্রয়ের অযোগ্য ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ঔষুধ জব্দ করে।  পরবর্তীতে এসব ঔষধ ধ্বংস করা হয়।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ২ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত সাইনিং ডায়গনোস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ল্যাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) না থাকা, ফ্রিজে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা, প্যাথলোজিষ্ট না থাকা সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ারা সাইদুজ্জামান ও চট্টগ্রাম জেলা ঔষুধ তত্ত্ববধায়ক হোসাইন মোঃ ইমরান।

এর আগে মেসার্স জান্নাত মেডিকেল হল, শান্তি মেডিকেল হল, এ. রহমান মেডিকেল হল, জামান মেডিকেল হল ও কেয়ার মেডিকোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে অধিকাংশ দোকানেই অনুমোদিত ঔষুধ, মেয়াদোর্ত্তীণ ঔষুধ, বিক্রি অযোগ্য ঔষুধ, ফার্মাসিস্ট না থাকা, লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, ফ্রিজে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা সহ নানা অভিযোগে জান্নাত মেডিকেল হলকে ২০ হাজার, শান্তি মেডিকেল হলকে ১০ হাজার, এ. রহমান মেডিকেল হলকে ২০ হাজার, জামান মেডিকেল হলকে ১০ হাজার ও কেয়ার মেডিকোকে ২০ হাজার টাকা সহ মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাছাড়া মেসার্স নূরে মদিনা ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স না থাকার কারণে আগামী তিন মাসের মধ্যে লাইসেন্স তৈরি করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন দোকান থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ঔষুধ জব্দ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের জানান, হাসপাতালের সামনে ঔষুধের দোকান ও ল্যাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় নানা অপরাধে তাদের অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। মানুষের জীবন অনেক মূল্যবান। কোন মানুষের জীবনের ক্ষতি হয় এমন কর্মকান্ডে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যে সমস্ত অপরাধে অভিযুক্তদের অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে আগামীতে যদি একই অপরাধ পাওয়া যায় তাহলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম জেলার ঔষুধ তত্ত্বাবধায়ক হোসাইন মোঃ ইমরান আজাদীকে জানান, অভিযান চলাকালে অনুমোদিত, বিক্রয় অযোগ্য, মেয়াদোর্ত্তীণ ২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ঔষুধ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে এ অভিযান চলমান থাকবে।