মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কর্ণফুলীর মরিয়ম আশ্রমে ‘আলোর পথে যাত্রা’

প্রতিনিধি, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ১০:৪৮ পিএম

কর্ণফুলীর মরিয়ম আশ্রমে ‘আলোর পথে যাত্রা’

বঙ্গে খ্রিস্টবিশ্বাস আগমনের ৫০০ বছর পূর্তিতে আনোয়ারা মরিয়ম আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয় ‘আলোর পথের যাত্রা’। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচ্চেরি নেতৃত্বে এই তীর্ যাত্রা অংশ নেন ১০ হাজার খীস্ট্র ধর্ম অনুসারী মানুষ। মোমবাতি হাতে নিয়ে তারা ঘুরে বেড়ান মরিয়ম আশ্রমসহ পুরো পাহাড়।

এ সময় তারা মনোবাসনা পূর্ণের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন। গত ৪০ বছর ধরে এই দিনে মরিয়ম আশ্রমে আলোর পথের যাত্রা অনুষ্ঠানটি পালন করে আসছিল খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীরা।

দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসবের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় আরাকান বাহিনীর হাতে শহীদ হওয়া ৬০০ খ্রিস্টানের সমাধিতে মঙ্গলপ্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আর্চযায়োসিসের বিশপ মজেজ কস্তার আহ্বানে এতে যোগ দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত জর্জ কোচ্চেরি, ভারতের আগরতলা ধর্মপ্রদেশের বিশপ লুমেন মন্টেরিও, সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিজয় এন’ডি ক্রুজ, ময়মনসিংহের পল পনেন কুবি, রাজশাহীর জেভার্স রোজারিও, খুলনার জেমস রমেন বৈরাগী, বরিশালের লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, দিনাজপুরের সেবাস্টিয়ান টুডু, ঢাকার সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, থিওটনিয়াস গমেজ প্রমুখ।

উৎসবের অন্যতম কর্মসূচি ছিল সাক্রামেস্তিয় আরাধনা ও আলোক শোভাযাত্রা। এ সময় মোমবাতি হাতে নিয়ে খ্রিস্টভক্তরা প্রার্থনা করতে করতে দিয়াংয়ের পাহাড়ি পথ প্রদক্ষিণ করেন।

১৫১৮ সালে চট্টগ্রামের দেয়াং পাহাড় এলাকায় পর্তুগিজ বণিকদের হাত ধরে পূর্ববঙ্গে খ্রিস্ট বিশ্বাসীরা আসেন। ১৫৩৭ সাল থেকে পর্তুগিজ বণিকরা চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

তাদের ধর্মীয় যত্ন নিতে দক্ষিণ ভারতের কোচিন এলাকা থেকে ১৫৯৮ সালে বঙ্গদেশে প্রথম খ্রিস্টান মিশনারীরা আসেন। ১৫৯৯ সালে দেয়াংয়ে এ অঞ্চলের প্রথম গির্জাঘরটি নির্মাণ করেন ফাদার ফ্রান্সেসকো ফার্নান্দেজ। পরের বছর পাথরঘাটা ব্যান্ডেলে ও জামালখান এলাকায় আরও দুইটি গির্জা নির্মাণ করেন।

“খ্রিস্ট বিশ্বাসের কারণে আরাকান রাজের নির্দেশে তাকে (ফাদার ফ্রান্সেসকো ফার্নান্দেজ) মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হয়। পূর্ববঙ্গের প্রথম খ্রিস্ট শহীদের সমাধির ওপরই চট্টগ্রামের ক্যাথেড্রাল গির্জা। পূর্ববঙ্গে খ্রিস্ট বিশ্বাসের কারণে দেয়াং এলাকায় প্রাণ দিতে হয়েছিল ৬০০ নারী পুরুষকে। খ্রিস্ট বিশ্বাসের যাত্রার ৫০০ বছরে বিকশিত হলেও সংখ্যায় তেমন বাড়েনি, কিন্তু বিকশিত হয়েছে সেবার গুনগত দিক দিয়ে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আছে প্রায় ৩৩ হাজার, সারা দেশে এ সংখ্যা তিন লাখ ৮০ হাজার। এ সম্প্রদায়ের লোকজনই গত পাঁচ শতাব্দি ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে পাঁচ শতাব্দী ধরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে

শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় মহা খ্রিস্টজাগ ও সন্ধ্যা ছয়টায় নগরের পাথরঘাটায় আর্চ বিশপ ভবনে আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ হবে।