বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

এসএসসি : চট্টগ্রামে ৭ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ১০:৪২ পিএম

এসএসসি : চট্টগ্রামে ৭ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন

ভুল প্রশ্নপত্র দিয়েই চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাতটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র অনুসারে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিবরা ভুলে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুসারে প্রণীত প্রশ্নে ২০১৯ সালের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করে।

কেন্দ্র সচিবদের এমন দায়িত্বহীনতায় চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া সাতটি পরীক্ষা কেন্দ্র হলো চট্টগ্রাম নগরের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়, পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উখিয়া পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয় স্বীকার করেন। মাহবুব হাসান বলেন, ‘এবার বাংলা পরীক্ষা ২০১৬, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র অনুসারে হওয়ার কথা। কয়েকটি কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবদের ভুলে ২০১৯ সালের সিলেবাসে যাদের পরীক্ষা দেয়ার কথা, তাদের মাঝে ২০১৮ সালের সিলেবাস অনুসারে প্রণিত প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। নগরের একের অধিক ও কক্সবাজারের সম্ভবত দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের খবর পেয়েছি। বিস্তারিত আরও পরে জানা যাবে। “তবে এতে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে," বলেন চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।’

তিনি বলেন, `কেন্দ্র সচিবদের প্রশ্নপত্র দেওয়া থেকে নেয়া পর্যন্ত সবকিছুতে সতর্ক থাকতে তাদের বার বার নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও যদি তারা এমন ভুল করে তাহলে আমরা কী করতে পারি?’
সারাদেশে শনিবার একযোগে শুরু এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রামের সাতটি কেন্দ্রের পাশাপাশি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি, মুন্সীগঞ্জে একটি এবং নেত্রকোনার একটি কেন্দ্রেও এই ধরনের ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে।

এরমধ্যে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দেড় হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেন বলে জানিয়েছে শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা। অন্য ছয় কেন্দ্রে কতজন পরীক্ষার্থী এই ভুলের শিকার হয়েছেন, তা জানাতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।

ইতোমধ্যে ওই সাত কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী কেন্দ্র সচিবদের ‘শোকজ’ করা হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী এক ছাত্রের বাবা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় এ ধরণের গাফিলতি কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এতে যদি পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়ে তাহলে তার জন্য কারা দায়ী হবে?”

ওই অভিভাবকের দাবি মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৭৭ জন শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় এবার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯০টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রথমদিনের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় কোন পরীক্ষার্থী বহিস্কার না হলেও অনুপস্থিত ছিল ৪৭৭ পরীক্ষার্থী।