বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

কর্ণফুলী টানেলে এগিয়েছে সংযোগ সড়কের কাজ

প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ১০:০০ এএম

কর্ণফুলী টানেলে এগিয়েছে সংযোগ সড়কের কাজ

উন্নয়ন সাফল্যে ভর করে আবার ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলীগ সরকারের জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সবচেয়ে বড় প্রকল্পের নাম কর্ণফুলী টানেল। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচের এই প্রকল্পে নদী গর্ভে খননের মূল কাজ শুরু না হলেও চারলেনের ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ঘিরে এখন পাল্টে গেছে এলাকার চেহারা। সহসা ‘বোরিং’ কাজও শুরু করা যাবে বলেও আশা করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম শহরসহ সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা কক্সবাজার-টেকনাফ পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজতর করতে কর্ণফুলী টানেল হবে মূল নিযামক। মিয়ানমার হয়ে প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্তিসহ ৭টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে টানেল প্রকল্পটি সরকারের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশের ফাস্ট ট্র্যাক মেগা প্রকল্পের অন্যতম কর্ণফুলী টানেল ২০২২ সালের মধ্যে নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় কর্ণফুলী নদীর মোহনার পাশ ঘেঁষে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত হবে স্বপ্নের টানেল। টানেলকে ঘিরে এগিয়ে চলছে ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজ।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন করপোরেশনের নিযুক্ত প্রকৌশলী মোঃ এনামুল হক জানান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ পরিচালিত কর্ণফুলী টানেলের চার লেন ১০ কিমি. সড়কের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। টানেলের ঢালসহ ৩০ মিটার প্রস্থ এ সড়কে কাফকো সেন্টার-কান্তিরহাট থেকে জালিয়াঘাটা পর্যন্ত ৭৫০ মিটার ফ্লাইওভার হবে। এ সড়কের দুপাশে ড্রেন তৈরীর পাশাপাশি সবুজায়নের ব্যবস্থাও রয়েছে। ৩০ মিটার প্রস্থ সড়কের মূল অংশ হবে ২৪ মিটার। এ সড়কের প্রথম অংশ হতে ৪ মিটার উচ্চতা হয়ে পরবর্তীতে ২ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা থাকবে। সড়কটি তৈরিতে প্রথম লেয়ার বালি ফিলিং, পিভিডি ওয়াড, সেন্ট ফিলিং ও পাইলিং এর পর উপরের স্তরে জিও গ্রেড বেড বসানো হবে। এরপর একই ভাবে ২য় স্তরের কাজও চলবে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ এ সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানেল ঘিরে এই এলাকার মানুষের নানা স্বপ্ন থাকলেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে শংকা ভর করেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। মৌজা রেট অনুযায়ী তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় আছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, বাস্তবায়নাধীন সংযোগ সড়কে তিনটি সমস্যার কারণে কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। চাতরী-চৌমুহনী বাজারের পিএবি সড়কের সংযোগস্থলে একটি খাল রয়েছে। চাতরী ও বৈরাগ ইউনিয়নের চাষাবাদ, বর্ষাকালে পানি চলাচলসহ শীতকালীন শাক-সবজি ফলানোর জন্য সেচকাজের জন্য এলাকার মানুষ এই খালের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে টানেল সড়ক তৈরিতে এ খালের কিছু অংশ ভরাট হয়ে যেতে পারে। এতে সেচকাজের পানির অভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে কৃষকেরা।  

এদিকে খালের পাশে বেলচুড়া এলাকার একটি কবরস্থান নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি সংযোগ সড়ক নির্মাণের ফলে তাদের বাপ-দাদার কবরস্থানটি যেন ক্ষতির মুখে না পড়ে।
`এছাড়া বৈরাগ, মোহাম্মদপুর, বন্দর, খলিফাপাড়াসহ পুরো সড়কের বিভিন্ন অংশে স্থানীয়দের বসতবাড়ীর অধিগ্রহণ কাজও চলছে বেশ ধীরগতিতে। এখানকার মানুষ এখনও ক্ষতিপূরণও পায়নি।  

স্থানীয় বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সোলাইমান জানান, বৈরাগ ইউনিয়নের উপর দিয়ে টানেল সড়কটি নির্মিত হচ্ছে। তাই সেতু কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবাররা যাতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায়।

চাতরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াছিন হিরু জানায়, চাতরীর সংযোগস্থলে যে খাল রয়েছে খালটি চাতরী ও বৈরাগ এর কৃষিকাজ, সেচ কাজ ছাড়াও দেয়াং পাহাড়ের বর্ষার পানি চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। এ খালটি বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষার সময় এলাকায় বন্যা দেখা দিবে। তাই খালটি রক্ষা করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি স্থানীয় কবরস্থানটি রক্ষা করাও জরুরী।

এদিকে খননকারী যন্ত্র টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) অ্যাসেম্বলির কাজ শেষ না হওয়ায় এখনও টানেলের মূল খনন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে টানেলের অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম। যে কারনে খুব সাবধানতার সঙ্গে খনন কাজ শুরু করতে হচ্ছে। তড়িগড়ি করে খনন শুরু করতে গিয়ে মাঝপথে আটকে গেলে প্রকল্প কাজে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে। হয়ত খনন কাজ শুরু করতে আরো দু’একমাস সময় লাগতে পারে।