বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯

কেইপিজেডে দুর্ঘটনা : থেমে গেল রাজিয়ার সংগ্রামের কাব্য

প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৯:০৯ এএম

কেইপিজেডে দুর্ঘটনা : থেমে গেল রাজিয়ার সংগ্রামের কাব্য

যে বয়সে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার হওয়ার কথা তখনই রাজিয়াকে নামতে হয়েছিল জীবন সংগ্রাম। কখনও কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কখনও ঔষধ কোম্পানি কিংবা কেএসআই সু ফ্যাক্টরি। একা একা চলছিল তার জীবন সংগ্রামের দিন। নিজের জন্য নয়, দু’সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতেই বিসর্জন দিয়েছিলেন নিজের সব সুখ আহ্লাদ।

শনিবার কেইপিজেডে বাসচাপায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সুলতানা রাজিয়ার (৩৮) প্রাণপাখি উড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতি ঘটল একটি জীবন সংগ্রামের কাব্য।

বিয়ের মাত্র ৮ বছরের মাথায় ২০০৫ সালে হৃদরোগে মারা যায় রাজিয়ার স্বামী মাওলানা জমির আহমদ। কর্ণফুলী উপজেলার ফাজিলখার হাটে ব্যবসা ছিল তার। স্বামীর মৃত্যুর সময় বড় ছেলে আয়াজের বয়স ৭ বছর আর ছোট ছেলে নিয়াজ তখন ৩।

সন্তানদের মানুষ করার জন্য সেই থেকে রাজিয়ার সংগ্রাম শুরু। তাদের মুখের দিকে চেয়ে রাজিয়া আর বিয়ে করেননি। প্রথমে চাকরি নেন স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। এরপর অরবিট ফার্মাসিটিক্যাল নামে একটি ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি নেন। ৩ বছর আগে যোগ দেন কেইপিজেডের কেএসআই সু ফ্যাক্টরি। আয়ের প্রায় পুরোটাই খরচ করতেন সন্তানদের জন্য।

নিজের রোজগারের টাকায় বড় সন্তানকে ভর্তি করিয়েছেন বরিশাল সেরনিবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। ছোট ছেলে দৌলতপুর ইচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

সুলতানা রাজিয়ার নিকটাত্মীয় মঈনুল হোসেন আজাদীকে বলেন, রাজিয়ার জীবন সংগ্রাম পুরোটাই ছিল দুই সন্তানের জন্য। শেষ পর্যন্ত এই সংগ্রাম আর শেষ করে যেতে পারলেন না। রাজিয়া হাইলধর গ্রামের এসএম আবু ইব্রাহিমের মেয়ে বলে জানান তিনি।

শনিবার সকাল সাতটায় কেইপিজেডের একটি কারখানার সামনে শ্রমিক বহনকারী একটি বাস সেখানে হেঁটে চলাচলকারী শ্রমিকদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আবদুল লতিফ (৪৮) নামের একজন নিহত হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আরও দুজন। তাঁরা হলেন রাজিয়া সুলতানা ও মো. ইকবাল।