ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮

অনিশ্চয়তায় ১৫ হাজার মামলার ভবিষ্যৎ

সারাবেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার, ০২:১৬ পিএম

অনিশ্চয়তায় ১৫ হাজার মামলার ভবিষ্যৎ

বিচারক সংকটের পাশাপাশি নানামুখী জটিলতার মুখে অনেকটা ঢিমেতালে চলছে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংক্রান্ত তিনটি ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম। এর মধ্যে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে এক বছর শূন্য থাকার পর বিচারক নিয়োগ দেয়া হলেও ২১ মাস ধরে বিচারক শূন্য রয়েছে তৃতীয় ট্রাইব্যুনালটি। এ অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বিচারাধীন ১৫ হাজার মামলার ভবিষ্যৎ।

নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি এই সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত এবং গুরুত্বের সাথে নিষ্পত্তির জন্য দেড় যুগ আগে চট্টগ্রামে শুরু হয় তিনটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম। প্রথম দিকে নগরীর ১৬টি এবং জেলার ১৭টি থানার পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়েরকৃত মামলাগুলো এখানে নিষ্পত্তি হতো। পরে তিন পার্বত্য জেলার মামলাগুলো নিজ নিজ জেলায় হস্তান্তর করা হয়। এখন প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে নগরী ও জেলা মিলিয়ে অন্তত ১১টি থানার মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে তৃতীয় ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৪ হাজার ২০২টি। ২০১৬ সালের ১২ জুলাই থেকে এই ট্রাইব্যুনাল বিচারক শূন্য। খবর সময় টিভি। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর পি পি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম সেন্টু বলেন, `আমাদের বর্তমান চার্জে আছেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওনার কোর্টের কাজ শেষ করে আমাদের কোর্টের কাজ করা অনেকটা দূরহ ব্যাপার।`

তৃতীয় ট্রাইব্যুনালের মতো দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালও অন্তত এক বছর বিচারক ছিলো না। এখানে বিচারাধীন রয়েছে ৫ হাজার ৭০০ মামলা। আর প্রথম ট্রাইব্যুনালে ৫ হাজার ৩০০ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় থাকলেও এখানকার বিচারককে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে তৃতীয় ট্রাইব্যুনালের কিছু রুটিন কাজ করতে হচ্ছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পি পি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের বলেন, `মামলাগুলোতে সহযোগিতা করা যার দায়িত্ব তাদের অবহেলার করণে অনেক সময় দেখা যায় যে, অনেক বড় এবং গুরুতর অপরাধের মামলা প্রমাণ করা যায় না।`

মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, প্রয়োজনীয় বিচারক না থাকায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার কারণে বিচারপ্রার্থীদের যেমন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তেমনি অনিশ্চয়তা দেখা দেয় বিচারাধীন মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও।