ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮

নতুনের আবাহনে চট্টগ্রামে বর্ষবরণ

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার, ০৭:৩৪ পিএম

নতুনের আবাহনে চট্টগ্রামে বর্ষবরণ

চলে এলো ১৪২৫ সাল। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যে বাংলার নতুন বছরকে সাদরে বরণ করা হলো মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে।

পয়লা বৈশাখের আজকের দিনে হাজারো মানুষের ঢলে মঙ্গলের এই যাত্রায় ছিল কেবল আনন্দ আর আনন্দ, উল্লাস আর উচ্ছ্বাস। রৌদ্রোজ্জ্বল সকালবেলায় বর্ণিল যাত্রায় ছিল না বেদনার কোনো কালো ছায়া। নেচে–গেয়ে, ডাক-ঢোলের বাদ্য বাজিয়ে বাংলার চিরায়ত সাজে নববর্ষকে বরণ করছে সবাই। সবার প্রত্যাশা, নতুন বছরটি হবে—ভালো, আরও ভালো।

চট্টগ্রামে নিযমের কড়াকড়ি, নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি, গরমের তীব্রতা সবই ছিল। কিন্তু কোনটাই বৈশাখ বরণের জনস্রোত আটকাতে পারেনি। বন্দরনগরীর চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট, অলিগলি, মাঠে-ময়দানে, স্কুল-কলেজে সবখানেই বৈশাখের জয়গান। ধর্মান্ধ শক্তির হুমকিকে পরোয়া না করে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে চট্টগ্রামের মানুষ মাতোয়ারা হয়েছে নতুন বছরকে বরণে। মানুষ জানান দিয়েছে ধর্মের নামে গোঁড়ামি নয়, এই বাঙালি জাতিসত্ত্বা যতদিন টিকে থাকবে ততদিন অসাম্প্রদায়িক চেতনাও থাকবে।

শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে নগরীতে বর্ষবরণের দুটি মূল ভেন্যু সিআরবি শিরীষতলা এবং ডিসি হিলে মানুষের আনাগোণা থাকলেও বেলা বাড়তে বাড়তে রীতিমতো ঢল শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিসি হিলের প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের সারি চেরাগি পাহাড়ের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিরীষতলায় প্রবেশে ইচ্ছুক দর্শনার্থীর সারিও ছিল মূল মঞ্চ থেকে অন্তঃত এক কিলোমিটার দূরে।
নানান বয়সী শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী বৃদ্ধরাও নববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরস্পরের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সবার পরনে ছিলো নতুন বছরের নতুন পোশাক।

ডিসি হিলে অনুষ্ঠানের আয়োজক সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে আমরা এবার বর্ষবরণ করছি। মৌলবাদ ও ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে বাঙালির শাশ্বত অবস্থান জানিয়ে দেওয়াই এবারের আয়োজেনের মূল লক্ষ্য।

সিআরবির শিরিষতলায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানমালার আয়োজক সংগঠন নববর্ষ উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. চন্দন দাশ বলেন, পহেলা বৈশাখ কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। আশির দশক থেকে স্বৈরাচারদের মদদে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের উপর ধর্মের রঙ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বাঙালি বারবারই কুসংস্কার, গোঁড়ামি উপেক্ষা করে সার্বজনীন এই উৎসব পালন করে আসছে।

এদিকে শনিবার বেলা ১১টায় নগরের বাদশা মিয়া সড়কের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিশাল আকৃতির সাম্পান, পেঁচা ও হাঁস ছিল শোভাযাত্রার সামনে পেছনে। হাতে হাতে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন, মুখোশ। ঢোলবাদ্য বাজিয়ে, নেচেগেয়ে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। কঠোর পুলিশী নিরাপত্তা ভেতর দিয়ে শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।