ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

আসছে ই-পাসপোর্ট

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৮:৪৭ এএম

আসছে ই-পাসপোর্ট

খুব শীঘ্রই ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বুধবার সংসদে সরকারি দলের সাংসদ নুরজাহান বেগমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন: ই-পাসপোর্ট চালু হলে সঙ্গে করে কাউকে পাসপোর্ট বহন করা লাগবে না। অথবা বিদেশ গিয়ে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলেও কোন বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে না। একটি ‘চিপস’ এর মধ্যেই পাসপোর্টধারীর সকল তথ্য সন্নিবেশিত থাকবে। বিমান বন্দরে গিয়ে পাসপোর্ট নম্বর বললেই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।

সরকারি দলের সদস্য ড. মোহাম্মদ শামসুল হক ভূঁইয়ার তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: দেশের আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার পুলিশ বাহিনীতে জনবল বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আরো ৫০ হাজার পদ সৃজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন পদ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলার জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারি দলের সদস্য এডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: পুলিশের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে সরকার সাথে সাথে এ ব্যাপারে অ্যাকশন নিয়ে থাকে। অভিযোগের ধরণ অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে সদর দপ্তরে ক্লোজ করা হয়।

ই পাসপোর্ট কী :

ই-পাসপোর্ট নামে পরিচিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত মেশিন রিডএবল পাসপোর্টের মতই, তবে এতে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এ পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাসপোর্টের ডেটা পেইজ এবং চিপে সংরক্ষিত থাকে। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) ডক ৯৩০৩-এ এই ডকুমেন্ট ও চিপ সংক্রান্ত তথ্য জমা রাখা হয়। তবে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু আছে এমন ৬০টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৫টি দেশ এ সংস্থার পাবলিক কি ডিরেক্টরি (পিকেডি)-এর অংশ।

এ ধরনের আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থায় বর্তমানে ফেসিয়াল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং আইরিস রিকগনিশন বায়োমেট্রিকস ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে আইসিএও পাসপোর্টে ব্যবহার্য বায়োমেট্রিক ফাইল ফরম্যাট এবং যোগাযোগ প্রটোকল নির্ধারণ করে দেয়। ডিজিটাল ছবি চিপে শুধু ডিজিটাল ছবিই সংরক্ষিত রাখা হয়, যা সাধারণত জেপিইজি বা জেপিইজি২০০০ ফরম্যাটের হয়ে থাকে। পাসপোর্ট চিপের বাইরে ইলেকট্রনিক বর্ডার কনট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে এই বায়োমেট্রিক ফিচারগুলোর মধ্যে তুলনা করা হয়।
কনটাক্টবিহীন চিপে ডেটা সুরক্ষিত রাখতে এতে কমপক্ষে ৩২ কিলোবাইট ‘ইইপিআরওএম, সংক্ষেপে ইইপ্রম (স্টোরেজ মেমোরি থাকে এবং তা আইএসও/আআইইসি ১৪৪৪৩ আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডসহ আরও কিছু স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী একটি ইন্টারফেইসে পরিচালিত হয়। তবে, বিভিন্ন দেশ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানভেদে এই স্ট্যান্ডার্ড ভিন্ন হয়ে থাকে। ইইপ্রম-এর মানে হচ্ছে -ইলেকট্রিক্যালি ইরেজএবল প্রোগ্রামএবল রিড-অনলি মেমোরি। এটি একটি বিশেষ ধরনের মেমোরি যা কম্পিউটার এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যগুলোয় ব্যবহার করা হয়। এতে অপেক্ষাকৃত কম জায়গা থাকলেও, এর প্রতিটি বাইট আলাদাভাবে মুছে ফেলা বা পুনরায় প্রোগ্রাম করা যায়। এর ফলে পাসপোর্টের তথ্য আপডেট করতে কোনো সমস্যা হবে না।

বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে সাইবার আক্রমণ ঠেকাতে নন-ট্রেইসেবল চিপ ব্যবহারসহ আরও কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকে। বিভিন্ন চিপ আইডেন্টিফায়ার প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ভিন্ন ভিন্ন চিপ নাম্বার দিয়ে থাকে। পাসপোর্ট চিপে রক্ষিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার (পিকেআই) ব্যবহৃত হয়, যার ফলে সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে চালু অবস্থায় এ ধরনের পাসপোর্ট নকল করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।

ডেটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার পরও, এ নিয়ে রয়ে গেছে কিছু প্রাইভেসি বিতর্ক। অনেক দেশেই এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অভিযোগ হচ্ছে, পাসপোর্টের ডেটা তারবিহীন আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রান্সফার করা যেতে পারে, আর এ কারণে ঘটতে পারে বড় ধরনের ডেটা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা। যদি পাসপোর্টের চিপে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য আর পাসপোর্ট নাম্বার সঠিকভাবে এনক্রিপ্ট করে না রাখা হয়, তাহলে এই তথ্য যে কোনো সময় অপয়াধীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ই-পাসপোর্টের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয়, "এই পাসপোর্ট ব্যবস্থা আনা হচ্ছে এমন সব দেশেই কিছু সংখ্যক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন যারা তাদের সব জোর দিয়ে বলতে চেষ্টা করছেন- `এটা নিরাপদ নয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার কোনো ভালো ধারণা নয়`।"

ওই প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দল ফিউচার অফ আইডেনটিটি ইন দ্য ইনফরমেশন টেকনোলজি (এফআইডিআইএস) -এর নেটওয়ার্ক গবেষণা দল ও ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার তাদের নাগরিকদের উপর এটি চাপিয়ে দিচ্ছে, আর এর ফলে নিরাপত্তা কমছে আর পরিচয়গত তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়ছে বলে দাবি তাদের।

বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ১শ`-এর মতো ই-পাসপোর্ট ব্যবহৃত হচ্ছে।