ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা জয়ে পিইসিতে ফাহিমের লড়াই

রবিউল হোসেন, পটিয়া

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার, ১০:০০ পিএম

দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা জয়ে পিইসিতে ফাহিমের লড়াই

পৃথিবীর আলো দেখছেন না দীর্ঘদিন ধরে। তারপরও হাল ছাড়েনি পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের প্রবাসী রহমান আলীর ছেলে মো. ফাহিম। দু চোখের দৃষ্টি হারিয়েও আলো জয় করতে শিক্ষা জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। রোববার থেকে শুরু হওয়া পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পিইসি পরীক্ষায় সে পৌরসদরের উত্তর গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়। পরিবারের স্বপ্ন সে বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হবে। প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে বলে পরিবারের আশা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাইদগাঁও ৪নং ওয়ার্ডের প্রবাসী রহমত আলীর তিন ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানের মধ্যে মো. ফাহিম সবার বড়। ৫ বছর বয়সেই সে চোখে কম দেখতে পেত। ৬ বছর বয়সে যখন উত্তর গোবিন্দারখীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয় সে সময় থেকেই অল্প দৃষ্টি নিয়ে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যায়। পঞ্চম শ্রেণীতে উঠার পর থেকে তার চোখে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। পঞ্চম শ্রেণীর দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার থেকে তার দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি লোপ পায়। চোখে না দেখায় সে ভালভাবে লিখতেও পারেনা বলে জানায় তার মা রেহেনা আকতার।

রেহেনা আকতার জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হলে চিকিৎসক ফাতিমের দু চোখ ব্লাইন্ড (অন্ধ) বলে জানালে শিক্ষা জীবনের প্রথম পরীক্ষাটা দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। উত্তর গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম বিষয়টি দক্ষিণ গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী উম্মে তাসলিমা চৌধুরীকে অবগত করেন। এরপর থেমে থাকতে হয়নি ফাহিমকে। ফাহিম জীবনের প্রথম পরীক্ষা (পিইসি) তে অংশ নিয়েছেন। পৌরসদরের আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নিয়ে প্রথম দিন রোববার ইংরেজী পরীক্ষা দিয়েছেন। মায়ের আশা ফাহিম বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হবে।

ফাহিমের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা দক্ষিণ গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে তাসলিমা চৌধূরী জানান, তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শিক্ষাজীবন শেষ করে বর্তমানে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। তিনি জানেন কিভাবে প্রতিকূলতা কাঠিয়ে সংগ্রাম করে এগিয়ে যেতে হয়। ফাহিমের কথাটি তিনি শোনা মাত্রই তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করে গেছেন। পিইসি পরীক্ষার ৬ মাস আগে ফাহিম দু চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। এরপর থেকে শিক্ষা অফিসের সহযোগিতা নিয়ে তিনি ফাহিমকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করে গেছেন। ফাহিমকে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হবে। আলোর সন্ধানে শিক্ষা জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যাবে ফাহিম এ আশা করেন তিনি।

আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের হল স্বপন কান্তি নাথ জানান, দু চোখে দেখতে না পাওয়া ফাহিম পিইসি প্রথম দিনের ইংরেজী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। সে নিজে হাতে লিখতে না পারায় তার জন্য নিয়ম অনুযায়ী তাকে একজন লেখকের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। আরনাভ শহিদ নামের চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রী ফাহিমকে পরীক্ষার খাতায় লিখতে সহযোগিতা করেছে। পরীক্ষার হলে অন্যরা যেভাবে খাতায় উত্তর দিয়েছে ফাহিম অন্ধ হয়েও সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে গেছে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য। তাকে নিয়ম অনযায়ী সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।