ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

আনোয়ারায় দেড় কিলেমিটারজুড়ে ভাঙ্গন

এম নুরুল ইসলাম, আনোয়ারা

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৭:৩৭ এএম

আনোয়ারায় দেড় কিলেমিটারজুড়ে ভাঙ্গন

বর্ষার উত্তাল সাগরের পর শুষ্ক মৌসুমে এসেও আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নে সাগরের ভাঙ্গন থামছে না। গত এক সপ্তাহে এই ইউনিয়নে নতুন করে ফকির হাট, নোয়াপাড়া, তেলিপাড়ার দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৩৭টি দোকান ও বসতঘর। এ অবস্থায় বেড়িবাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করা না গেলে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ ভাঙ্গন তীব্রতর হওয়ার পুরো রায়পুর ইউনিয়নজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে দূর-দূরান্তে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আগে বর্ষাকালেই ভাঙ্গন সৃষ্টি হলেও এ বছর শীতকাল শুরুর আগে হেমন্তের এই সময়ে ভাঙ্গনকে অনেকে ব্যতিক্রম হিসাবে দেখছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে আবদুল গফুর, খতিজা বেগম, আবদুল মজিদ, আবদুল হাকিম, নিদাল, নুরুন্নবী , শেখ মোহাম্মদ, শাহাব উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাক, মো. সিরাজ, নুর করিম, মো. ইলিয়াছ, একে খান, ইকবাল হোসেন, মিনু আকতারের বসত ঘর। এছাড়া সাগরগর্ভে চলে গেছে মোহাম্মদ হেলাল, নঈম উদ্দিন, মোহাম্মদ বেলাল, মোহাম্মদ দিদার, মো. ইদ্রিস, মো. কামাল, আবদুল জলির, হেফাজ উদ্দিন, অমিত শীল, মো. নাছির, আবুল কাশেম, শওকত নুর, মো. ওসমান, মো. মোজাহের, মোহাম্মদ রাশেদ, আলী হোসেন, মোহাম্মদ ইদ্রিছ, মোহাম্মদ শফি, নুরুচ্ছাফা, নুরুল কাদেও, আবদুস সামাদ ও সুজন শীলের মালিকানাধীন দোকানঘর।

বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় অনেক ধানী জমি, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি সাগরগর্ভে চলে গেছে। রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় লোকজনকে সাকোঁর মাধ্যমে যাতাযাত করতে হচ্ছে।

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফেলতিকে দায়ি করে বলেন, বেড়িবাঁধের কাজের গতি অস্বাভাবিক শ্লথ। এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিন পুরো রায়পুর ইউনিয়ন সাগরে চলে যাওয়ার উপক্রম হবে। তিনি বলেন, ভাঙ্গনের ফলে পুরো ইউনিয়নজুড়ে অসংখ্য খালের সৃষ্টি হয়েছে। আর তাতে ইউনিয়নটি হয়ে পড়েছে সাকোঁ নির্ভর। তিনি বেড়িবাঁধের কাজের মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের টাকায় বেড়িবাঁধের রায়পুর অংশের ১২৮ মিটার এলাকায় ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয় গত বছরের ৩০ মার্চ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত বছর বর্ষায় ভাঙনে বিলীন হওয়া বেড়িবাঁধের অংশটি ছিল কার্পেটিং করা। সড়কটি দিয়ে যানবাহনও চলাচল করত। সড়কটি বিলীন হওয়ায় ওই স্থানে নতুন করে মাটি ফেলা হয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে প্রকল্পের ব্যয়।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ করায় বাঁধটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। মাটি ফেলার পর বাঁধের সব স্থানে ব্লক বসানো হবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী কায়সার উদ্দিন জানান, আনোয়ারা রায়পুর ইউনিয়নে সাগরের ভাঙ্গন সারাবছরই লেগে আছে। আমরা বেড়িবাধেঁর কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দিয়েছি।