ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

বর্ধিত গৃহকর নিয়ে মহিউদ্দিনের চিঠি

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার, ০৮:৫০ এএম

বর্ধিত গৃহকর নিয়ে মহিউদ্দিনের চিঠি

বর্ধিত গৃহকর রহিতকরণে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে চিঠি দিচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্যাডে মেয়র বরাবরে লিখিত চিঠিটি গতকাল ইমেইলে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় চিঠিটি সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করবেন নগর আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক হাসান মোহাম্মদ শমসের।

‘বর্ধিত গৃহকর রহিতকরণে সিটি মেয়রকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুরোধ পত্র’ শিরোনামে এই চিঠির শুরুতেই মেয়রকে সালাম জানিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে-‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক হালনাগাদ করণে গত বারের এসেসমেন্টের চেয়ে ক্ষেত্র বিশেষে শতগুণ বা ততোধিক হারে গৃহকর বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাধারণ নগরবাসীর মধ্যে ক্ষুব্ধ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা জানি চট্টগ্রাম একটি মহানগরী হলেও নগরীর সব এলাকা সমউন্নত নয়। ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রাম নগরীর গৃহ মালিকদের গৃহ আয় অনেক কম। তারা সরকারের রাজস্ব বিভাগকে নির্ধারিত আয়কর দিচ্ছেন। তারপরও গৃহ ভাড়া বাবদ আয়ের কর আদায় কোন ভাবেই যুক্তিযুক্ত হবে না।

নগরীর গৃহ মালিকদের সার্বিক আর্থিক বিবেচনায় গৃহকর পূর্ব ধার্যকৃত মূল্যে আদায় ও বিগত এসেসমেন্ট থেকে বর্তমান এসেসমেন্টের যে সকল গৃহ আয়তন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি পেয়েছে শুধু তাদের ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত পৌরকর বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা করছি।’
চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘মনে রাখতে হবে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই জনগণের উপর এমন কোন যুক্তিহীন করারোপ বাঞ্চনীয় নয়।’

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চিঠির বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘মেয়র হিসেবে আমাকে যে কেউ পরামর্শ দিয়ে চিঠি লিখতে পারে। এই চর্চা খুবই ভাল, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমি একে সাধুবাদ জানাই। এর মাধ্যমে নগরবাসী সচেতন হবে। আমি সকলের পরামর্শ গ্রহণ করবো এবং পর্যালোচনা করে নগরবাসীর জন্য যা বিধিসম্মত তাই করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি বিষয় নিয়ে যতো আলোচনা-সমালোচনা হবে ততোই সঠিক বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। গৃহকর নিয়ে আলোচনার কারণে পূর্বে কীভাবে কর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সরকারের আইন কী আছে তা নগরবাসীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। একইসাথে নগরবাসী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়নসহ বিবিধ খাতে কী পরিমাণ অর্থ দিয়েছে এবং গত দুই বছরে কী উন্নয়ন হয়েছে এর একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হবে। আগামী রোববার বা সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা নগরবাসীর কাছে উপস্থাপন করবো।’

প্রসঙ্গত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আরোপ করা গৃহকরের (হোল্ডিং ট্যাক্স) নতুন হার বাতিল করে আগের হার বহালের দাবি জানিয়ে গত শুক্রবার বাড়ির মালিকদের সংগঠন ‘করদাতা সুরক্ষা পরিষদ’ কদমতলী এলাকায় বিশাল মানববন্ধন করে। সেই মানববন্ধন করদাতা সুরক্ষা পরিষদের পক্ষে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে জায়গার আয়তনের ওপর বাড়ির মালিকরা গৃহকর দিত। এখন তা ভাড়া আদায়ের ওপর নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে বাড়ির মালিকদের ওপর করের পরিমাণ আগের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ গুণ বেড়ে গেছে।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, বাড়ির মালিকরা আয়ের ওপর একবার কর পরিশোধ করছে, তার ওপর তাদের বাড়ির ভাড়ার ওপর পুনরায় কর আরোপ করেছে সিটি করপোরেশন। এতে করে ভাড়াটিয়ারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমাবেশ থেকে সাতদিনের মধ্যে বর্তমান গৃহকরের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে পুরানো হারে ফিরে না গেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব অফিস ঘেরাও ও মেয়র কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর অন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়।

এছাড়া গতকাল বিকেলে লালদীঘি ময়দানে ইসলামী ফ্রন্টের উদ্যোগে প্রস্তাবিত গলাকাটা হোল্ডিং ট্যাক্স বাতিল ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, ‘নগরবাসীর উপর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রস্তাবিত হোল্ডিং ট্যাক্স সম্পূর্ণ অবিবেচনাপ্রসূত অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে জনগণকে ডাকাতি করার শামিল। এতে জনগণকে বিষিয়ে তুলছে। হঠাৎ ১০ থেকে ২০ গুণেরও বেশি কর আরোপ করা কোনভাবেও মেনে নেওয়া যায় না। দয়া করে হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে ডাকাতি করবেন না।’