ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮

ইংল্যান্ড দেখাল ‘পা নামা’

ক্রীড়া ডেস্ক :

প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০১৮ রবিবার, ০৯:১৫ পিএম

ইংল্যান্ড দেখাল ‘পা নামা’

বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে অভিজ্ঞতাটা কিছুতেই ভাল হল না পানামার। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ০-৩ গোলে হার। আর রোববার তাদের নিয়ে রীতিমতো ছেলে-খেলায় মাতল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন করল পানামা।

দলটিকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ `জি` থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেল ইংল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক তুলে নেন হ্যারি কেইন। এর আগে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাট্রটিক করেছেন মাত্র দু`জন। ১৯৬৬ সালে জিওফ হার্স্ট আর ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকার।

এই অর্জনের সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষেও উঠে গেলেন হ্যারি কেইন। পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও বেলজিয়ামের রোমালু লুকাকু করেছেন ৪টি করে গোল। তাদের ছাড়িয়ে দুই ম্যাচেই কেইন করলেন ৫টি গোল!

পানামার মুখে অবশেষে হাসি ফুটল ৭৮ মিনিটে। এই ম্যাচে তো অবশ্যই, বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারল, এতেই অনেক খুশি পানামা। কিন্তু তার আগে নোভগোরাদে যা হলো, শুধু পানামাই নয়, ইংলিশদেরও মনে থাকবে অনেক দিন। পার্থক্য হচ্ছে, এক দলের যেটি দুঃস্মৃতি, অন্য দলের সেটিই সুখস্মৃতি। সোজা কথায়, ৬-১ গোলে পানামাকে বিধ্বস্ত করল ইংল্যান্ড। গুঁড়িয়ে দিয়ে পানামাকে যেন বলতে চাইল, কাদের সঙ্গে খেলছ, বুঝে খেলো! পায়ের এই খেলায় যা দাপট দেখানোর, আমরাই দেখাব!

নিঝনি নভগোরদ স্টেডিয়ামে পানামাকে রীতিমতো গোল বন্যায় ভাসিয়েছে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের হ্যাটট্রিক আর জন স্টোনসের জোড়া গোলে এবারই প্রথম খেলতে আসা দলটিকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা। তাতে দ্বিতীয় রাউন্ডও নিশ্চিত হয়ে গেছে থ্রি লায়ন্সদের।

ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায়ই গোলের দেখা পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। পানামার এরিক ডেভিসের পায়ে গেলে বল বাইরে যাওয়ার পর ডানদিক থেকে মাপা কর্নার নিয়েছিলেন কেইরান ট্রিপার। বক্সের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে সেটা দারুণ এক হেডে জালে জড়িয়ে দেন জন স্টোনস (১-০)।

দ্রুত গোল হজম করে সেটা শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে পড়ে পানামা। ১১ মিনিটে ডানদিক থেকে এডগার বার্সেনাসের ক্রস বক্সের মধ্যে আটকে দেন কাইল ওয়াকার। মিনিট চারেক পর বক্সের বাইরে থেকেই আরেকটি জোড়ালো শট নিয়েছিলেন বার্সেনাস। একটুর জন্য সেটা গোলপোস্টের বাঁ প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে যায়।

১৯ মিনিটে হেসে লিনগার্ডকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ফেলে দেন পানামার দুই ডিফেন্ডার। ভিএআরে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন গোল করতে ভুল করেননি (২-০)। বক্সের বাঁ কোনা দিয়ে তার বুলেট গতির শট জালে জড়িয়েছে নিমিষেই।

৩৯ মিনিটে ৩৫ গজ বাইরে থেকে নেয়া এক ফ্রি কিককেও গোল বানিয়ে ছেড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। সেট পিস থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে হেডে সেটা রহিম স্টার্লিংকে দেন কেইন। স্টার্লিংয়ের শট পানামা গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও হাত থেকে বল ছুটে যায়, ফিরতি শটে সেটা জালে জড়িয়ে দেন বাঁ দিকে দাঁড়িয়ে থাকা জোনস (৪-০)।

৪৪ মিনিটে আরও বড় ভুল করে বসে পানামা। বক্সের মধ্যে ইংলিশ খেলোয়াড়দের একদম গায়ে ধরে রাখে তারা। এসকোবার তো হ্যারি কেইনের মাথায় হাত দিয়ে মাটিতেই ফেলে দেন। এজন্য হলুদ কার্ডও দেখেন তিনি। পেনাল্টি থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইংলিশ অধিনায়ক কেইন (৫-০)।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬২ মিনিটে কপালগুণে এক গোল পেয়ে যান কেইন। বক্সের বাইরে থেকে শটটা নিয়েছিলেন রুবেন লফটাস-চেক, কেইনের গোড়ালিতে লেগে সেটা জড়িয়ে যায় জালে (৬-০)। তাতে হ্যাটট্রিকও পূরণ হয়েছে টটেনহাম স্ট্রাইকারের। সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান কেইন, বদলি হিসেবে নামেন জেমি ভার্দি।

৭৬ মিনিটে একটি সুযোগ মিস করে পানামা। রদ্রিগেজের কাছ থেকে বল পেয়ে তোরেস বক্সের বাম পাশ থেকে শটটা ঠিকভাবে নিতে পারেননি। তবে এই হতাশা কাটতে সময় লাগেনি কনকাকাফ অঞ্চলের দেশটির।

৭৮ মিনিট রিকার্ডো আভিয়ার দুর্দান্ত এক সেট পিস থেকে বল বক্সের মধ্যে পেয়ে কিছুটা পিছলে শুয়েই জালে জড়িয়ে দেন অধিনায়ক ফেলিপে ব্যালয়। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোল পায় এবারই প্রথম খেলতে আসা পানামা (৬-১)।
এরপর আর গোল পায়নি কোনো দল। ফলে ৬-১ গোলের বড় জয় নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রেখেছে থ্রি লায়ন্সরা।

সারাবেলা/এসআর/এএম