AD
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

এমন দিন কমই এসেছে বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৭ রবিবার, ০৩:৫৩ এএম
এমন দিন কমই এসেছে বাংলাদেশের

না থেকেও ছিল বাংলাদেশ। হোক না তা অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ! বার্মিংহামের এই ম্যাচের হার-জিতের ওপরই যে নির্ভর করছিল মাশরাফিদের সেমিফাইনাল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে হারতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে, এই ছিল সমীকরণ। বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের প্রার্থনায় ছিল তাই ইংলিশদের জয়। ক্রিকেট ঈশ্বর শুনেছেন সেই প্রার্থনা, দুহাত ভরে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়ায় প্রথমবার আইসিসির বড় কোনও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। ৪১তম ওভারে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ইংলিশরা ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে ৪০ রানে।

এমনিতেই জয়ের পথে এগিয়ে ছিল ইংলিশরা। কাজটা তাদের আরও সহজ করে দিয়েছে বৃষ্টি। একটা শঙ্কা কাজ করছিলই বৃষ্টি নিয়ে। কেননা বৃষ্টির বাগড়ায় দুটো ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল এই অস্ট্রেলিয়ারই।

তবে ২০ ওভার পেরিয়ে যাওয়ার পরিত্যক্তের আর কোনও সম্ভাবনা ছিল না। যদিও বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছিল ঠিকই। ৪১তম ওভারে বৃষ্টি শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচ। যদিও ততক্ষণে জেতার কাজটা করে রেখেছিল ইংলিশরা। ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে ৪০.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান করা ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার ২৭৭ রানের চেয়ে এগিয়ে ছিল ৪০ রানে।

‘এ’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশন শেষ করল কোনও ম্যাচ না জিতে। এই হারের আগে দুটো ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ৩ ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট ২। পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ১। আর কিউইদের হারিয়েই মহামূল্যবান ২ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশ সবমিলিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ‘এ’ গ্রুপের রানার্স আপ হয়ে। আর তিন ম্যাচের সবক’টি জেতা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংলিশদের পয়েন্ট ৬।

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের কার্ডিফের ম্যাচটাই যেন ফিরে এসেছিল বার্মিংহামে। ২৭৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই বিশাল ধাক্কা খায় ইংলিশরা। মাত্র ৬ রানেই নেই ২ উইকেট। দুই ওপেনার জেসন রয় (৪) ও অ্যালেক্স হেলস (০) ফিরে যাওয়ার পর জো রুটও পারেননি নিজেকে মেলে ধরতে। জশ হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্কের পেস আগুনে স্বাগতিকদের রান তখন ৩ উইকেটে ৩৫!
ইংল্যান্ড সমর্থকদের চেয়ে বেশি হতাশা গ্রাস করেছিল বাংলাদেশের ভক্তদের। তবে তাদের বিষণ্ন মুখে ঠিকই হাসি ফুটিয়েছেন এউইন মরগান ও বেন স্টোকস। কঠিন বিপর্যয়ের মধ্যে থেকে দলকে টেনে তোলার কাজে লেগে পড়েন তারা। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৫৯ রানের অসাধারণ জুটি। অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের ওপর রীতিমত ঝড় তুলেছেন মরগান-স্টোকস। ৮৭ রান করে মরগান রানআউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও স্টোকস তুলে নেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ১০২ রানে। ১০৯ বলের ইনিংসটি যিনি সাজিয়েছিলেন ১৩ চার ও ২ ছক্কায়। তার সঙ্গে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন জস বাটলার।

দুই দশক আগে আইসিসি ট্রফি জয়ের কথা হয়তো এ প্রজন্মের অনেকের মনে নেই। ১৯৯৭ সালে আইসিসির সহযোগী সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টের টানটান উত্তেজনার ফাইনালে বাংলাদেশ হারিয়ে দিয়েছিল কেনিয়াকে। দুই বছর পর বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর উচ্ছ্বাসে ভেসেছিল বাংলাদেশের মানুষ। সেই শুরু। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে টাইগাররা আজ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে। অনেক সাফল্যেই ভেসেছে বাংলাদেশ, তবে এই দিন আসেনি কখনও। এই প্রথম যে আইসিসির বড় কোনও টুর্নামেন্টের শেষ চারে উঠল টাইগাররা। আনন্দের জোয়ারে ভাসছে তাই গোটা বাংলাদেশ।

২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া বাংলাদেশকে পেরোতে হয়েছে অনেক কঠিন পথ। সাফল্য যেমন পেয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার গ্লানিতেও ডু্বেছে অনেকবার। ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকেই আসলে টাইগারদের পরিবর্তনের সূচনা। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া দলটি আজ অনেক পরিণত। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিই তার প্রমাণ।

ওই বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে ক্রিকেট-দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যেই র্যাংকিংয়ে অভাবনীয় উন্নতি এনে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ। র্যাংকিংয়ের সেরা আট দলের লড়াইয়ে টাইগাররা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই সেমিফাইনালে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে শেষ চারের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তবু দুশ্চিন্তা ছিল, যদি না অস্ট্রেলিয়া হেরে যায় ইংল্যান্ডের কাছে। কিন্তু তা হয় নি। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ে বাংলাদেশের মানুষ আজ উল্লাসে মুখর, আনন্দে আত্মহারা।

এখন সামনে সেমিফাইনালের চ্যালেঞ্জ। আগামী বৃহস্পতিবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কারা হবে প্রতিপক্ষ, তা জানতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তবে যে-ই প্রতিপক্ষ হোক, বাংলাদেশ যে আজ নির্ভীক, তা কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে রচিত হয়েছে আরেকবার। এবার আরও এগিয়ে যাওয়ার পালা।