ঢাকা, রোববার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

‘মা পাশে থেকে বাবাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন’

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭ শনিবার, ১০:২৬ পিএম

‘মা পাশে থেকে বাবাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন’

‘আমার মা পাশে থেকে বাবা’কে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছেন। ৭ মার্চ ভাষণের আগে মা, বাবাকে বলেছিলেন, তুমি এই দেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছ। তুমি জানো কী করতে হবে। তুমি যা ভালো মনে কর, তাই বলবা।’

বেগম রোকেয়া পদক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে এ কথা বলেন। পদক অনুষ্ঠানটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এখনো মনে আছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই সময়ে যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল তখন তার আগে বাবাকে আইয়ুব খানরা প্যারোলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তখন মা বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, মামলা হলে হব কিন্তু তুমি প্যারোলে যাবে না। আমার মা পাশে থেকে বাবাকে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা দিয়েছেন। মা কখনো স্বার্থপরের মতো নিজের কথা ভাবেননি। আমার বাবার, মা-বাবারা সব সময়ে তার ছেলেকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।’

বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেঁদে দেন। তিনি বলেন, ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় তখন খুনিরা মা’কে বলেছিল, আমাদের সঙ্গে চলুন। মা তখন বলেছিলেন, না। আমি কোথাও যাব না, আমি এখানেই থাকব। এভাবে তিনি নিজের জীবন দিয়েছিলেন। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে নারী সমাজের অবদান রয়েছে। আমার মা সব-সময়ে রাজনীতির ক্ষেত্রে এবং স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়ে পাশে থেকে বাবাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া নারী সমাজের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করেছেন। এক সময় নারীদের শিক্ষাগ্রহণের বিষয়কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। ওই সময়ের সমাজে মানুষের মনোভাব ছিল এমন যে নারীরা শুধু বাসায় থাকবে, গহনা পড়বে, সন্তান উৎপাদন করবে, রান্না-বান্না আর ঘর ধোয়া-মোছার কাজ করবে। মানুষের এমন ধারণা ভেঙে দিয়েছেন বেগম রোকেয়া। তিনি নারীদের জন্য নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন যে নারীরা পড়াশোনা করবে। পড়াশোনা করে জজ-ব্যারিস্টার হবে, দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। বেগম রোকেয়ার এই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন বলেই আজ আমরা এগিয়ে যেতে পারছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময়ে বাংলাদেশ নারী উন্নয়নে পিছিয়ে ছিল্। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। নারী ক্ষমতায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় সংসদের সর্বোচ্চ ৪টি পদেই নারীরা রয়েছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের নারীরা সাহসী ভূমিকা রাখছে। আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের গঠনতন্ত্রে নারী নীতির কথা বলা হয়েছে। আমরা সন্তানের নামের সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত করেছি। বাংলাদেশের নারীরা এখন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে।’