AD
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

সবাই জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে : হেলাল হাফিজ

জব্বার আল নাঈম
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০১৭ শুক্রবার, ০৪:৪৬ পিএম
সবাই জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে : হেলাল হাফিজ

সমকালীন বাংলা কবিতায় হেলাল হাফিজ যেন এক দুঃখের রাজকুমার। তিনি ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। ওই শহরেই কাটে তাঁর শৈশব, কৈশোর ও প্রথম যৌবন। নেত্রকোনায় স্কুল ও কলেজজীবন শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রচিত `নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়` কবিতাটি তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় হেলাল হাফিজের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র কাব্যগ্রন্থ `যে জলে আগুন জ্বলে`। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রীত এই কাব্যগ্রন্থ হেলালকে এনে দেয় তুঙ্গস্পর্শী কবিখ্যাতি আর ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। তার পর এক বিচিত্র জীবনযাপন, যার প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে বেদনা, দুঃখ কিংবা বিস্ময়ের ছড়াছড়ি। নিভৃতবাসী এই কবি জীবনের অনেক কথাই বলেছেন একান্ত আলাপনে।

গত ৩০ বছরেও আপনার দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে না আসার কারণটা কী?
হেলাল হাফিজ : ৩০ বছর হয়ে গেল। প্রায়ই আমাকে বিভিন্নজনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, ‘হেলাল হাফিজের আর কোনো বই নেই।’ আসল কথা হলো, প্রথম বইয়ের পর মানুষের প্রত্যাশা আমার কাছে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আমাকে আরো ভালো কিছু লিখতে হবে—এই তাড়না আমার ভেতরে কাজ করতে থাকল। গত তিন বছর আমি ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছি, আগামী বছর দ্বিতীয় নতুন বই করব। কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে তা হয়ে উঠছে না। আবার টুকটাক কিছু টিভি অনুষ্ঠান করার কারণেও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আমার দ্বিতীয় বইটি তো ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র থেকে ভালো না হোক, কাছাকাছিও রাখতে হবে। সেটা যদি না পারি, আমি কেন লিখব? তারপরও আমি মোটামুটি একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছি। একবারে বসেও নেই। কিন্তু কিছুতেই আমি তৃপ্ত হচ্ছি না। স্থির হতে পারছি না কবিতাগুলো নিয়ে। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, ২০১৭ সালে আমার বই বের হচ্ছে না।

পাঠককে আর কত অপেক্ষা করতে হবে দ্বিতীয় বইয়ের জন্য?
হেলাল হাফিজ : বেশিদিন আর অপেক্ষা করতে হবে না। ২০১৭ বইমেলায় বই করার পরিকল্পনা ছিল। যদিও সেখান থেকে সরে এসেছি। আশা রাখি, ২০১৮ সালে বইমেলায় কিংবা তার পরে বই করার পরিকল্পনা আছে। আর আমার শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। চোখে সমস্যা হচ্ছে। ডায়াবেটিস হয়েছে। মানে গত আট-নয় মাস ধরে আমি কেবল ডাক্তারের কাছে আসা-যাওয়ার মধ্যে আছি। বাঁ চোখটা খুব বেশি ড্যামেজ হয়ে গেছে। এ বছর থাক। পরের বছরই করব।
গত এক বছর শারীরিক সমস্যার কারণে লেখালেখি করতে পারি না। সাহিত্যে সময়ও দিতে পারিনি। ফলে এ বছর আর ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’র পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে আসছে না।
গত এক বছর অসুস্থ ছিলেন, তা মেনে নিলাম। কিন্তু ছিয়াশি সালের পর এখন ২০১৬ শেষ হচ্ছে।

দীর্ঘ ৩০ বছর আপনি কবিতাবিমুখ ছিলেন না নিশ্চয়?
হেলাল হাফিজ : লিখেছি তা খুব কম। লিখলে অনেক বই করতাম।
আপনার মনে হয় না, আপনি পাঠককে ঠকিয়েছেন?
হেলাল হাফিজ : এ জন্য আমি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করি। আমি আমাকে কখনো ক্ষমা করতে পারিনি। অপরাধবোধ কাজ করে। হেলায় অনেক সময় নষ্ট করেছি। পাঠককে আমার আরো অনেক কিছু দেওয়ার ছিল, যা আমি করিনি। আমি নিজের সঙ্গে নিজে যুদ্ধ করছি। খুবই অপরাধও করেছি। অনেক সময় অপচয় করেছি। এ জন্য আমি লজ্জিত, দুঃখিত ও মর্মাহত। একজন লেখকের যে সব লেখা সমান হবে, তেমন নয়। কারোই সব লেখা সমান নয়। সম্ভবও না। আমার অন্তত ১৫টি বই থাকার কথা ছিল। তা না হলেও ১০টি বই থাকা উচিত ছিল। কিন্তু এর জন্য দায়ী তোমরাও কম না। তোমরা পাঠকরা যদি আমাকে এত বেশি ভালো না বাসতে, আমি কোনো চাপ নিতাম না। তোমাদের দেওয়া চাপ সহ্য করতে না পেরে আমার এত অপেক্ষা। (হাসি) আর আমি এখন লিখতে বসলে হাত কাঁপে। পাণ্ডুলিপি করতে গেলে ভয় আসে। আমি ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারব তো?

‘যে জলে আগুন জ্বলে’ বইটির নাম বারবার বললেও ‘কবিতা একাত্তর’ বইটির নাম না বলার কারণ কী?
হেলাল হাফিজ : ‘কবিতা একাত্তর’ এক অর্থে আমার নতুন বই নয়। ৫৬টি কবিতার সঙ্গে নতুন ১৫টি কবিতা সংযোগ করে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। ওইটা কোনো অর্থেই মৌলিক বই নয়। দেখো একটা ইংরেজি অনুবাদ বই মুড়ির মতো বিক্রি হচ্ছে। এখানে একটা কথা আছে। প্রকাশক আমার সঙ্গে মনে হয় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। আমি ব্যাপারটি যদিও প্রথমে বুঝতে পারিনি। আমার একটা বই বেরিয়েছে, সেখানে পাঠক ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কিনে দেখে আরে, এ তো পুরাতন কবিতার সঙ্গে নতুন ১৫টি কবিতা! পাঠক খুব হতাশ হয়েছে। ব্যাপারটি আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। আমার মাথায় ধরেনি।

আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ কী ছিল তখন?
হেলাল হাফিজ : দেখো, কোনো মানুষই রাজনীতির বাইরে না। আমি ছাত্রবেলায় কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে আমি বাম রাজনীতির গোপন সমর্থক ছিলাম বা এখনো আছি। এখানে আমার একটা পক্ষপাত আছে।

সমাজতন্ত্রের প্রতি আপনার পক্ষপাতটা কেন? আপনার কি মনে হয় সমাজতন্ত্র আবার আগের মতো ক্ষমতায় আসতে পারবে?
হেলাল হাফিজ : সাম্যবস্থা যদি তুমি করতে চাও, সে ক্ষেত্রে খুব দরকার। তুমি বলতে পারো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেছে। রাশান পতন হয়েছে। সমগ্র বিশ্বে আজ সমাজতন্ত্র ভালো অবস্থানে নেই। আমাদের পাশের দেশ পশ্চিমবঙ্গে পতন হলো, এটা হয়েছে আদর্শের জন্য না। এটা ভুল মানুষের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার কারণে হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে পতন হয়েছে। তার পরও আমি সমাজতন্ত্রের কথা বলব। কারণ, সমাজতন্ত্র একটা ব্যালান্সের কথা বলে। গণতন্ত্র বলি বা অন্য তন্ত্র বলি, সেখানে এক ধরনের পুঁজিবাদতন্ত্র। এই পুঁজিবাদতন্ত্রের কারণে আমাদের দাসত্ব বরণ করতে হচ্ছে। এখন আবার আমরাও সেসব মেনে নিচ্ছি। এটাকে অতিক্রম করা দরকার। সমাজতন্ত্রের হাতে আমাদের শান্তি হবে।

আপনি ইউরোপ বা আমেরিকার কথা বলছেন, ভালো কথা। ওদের যারা সমাজতন্ত্র সাপোর্ট করছে, তাদের এক হাতে ডাচ ক্যাপিটাল অন্য হাতে বাইবেল বা ধর্মীয় গ্রন্থ। তখন সেখানে কীভাবে সমাজতন্ত্র থাকে?
হেলাল হাফিজ : আরে বাইবেল বা ধর্মীয় বই না, এরা লুটতরাজ। লুটতরাজের এলাকা। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে যা হয়। যেকোনো দেশেই বেশিদিন কেউ ক্ষমতায় থাকলে একটা অরাজকতা চালু করে। লুটতরাজের খেলা খেলে। ধরো, পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম ৩২ বছর ধরে ক্ষমতায়। তাদের একটা মাফিয়া গ্রুপ তৈরি হয়েছে। ভোগ-বিলাসিতা করছে। পশ্চিম বাংলায় কী হয়েছে জানো? ধরো তোমার বাড়ি ওই পাড়ায়। তুমি ছাত্রসংগঠনের নেতা। অথবা সিপিএম নেতা। এ-পাড়ার আমি হয়তো সিপিএম করি না। আবার ওই পাশে অন্য কোনো সিপিএম নেতার বাড়ি। আমি অন্য কোনো দল সমর্থন করি। আমার ঘরে যুবতী মেয়ে আছে। তোমরা দুজনে যুক্তি করে, আমার কাছে চাঁদা চাওয়া বা অন্য কোনো দাবি আদায় করা নিয়ে আসতে। এখন আমি কী করব, আমার মেয়ে তো বড় হচ্ছে। একজন দোকানদার দোকান বড় করবে। কিন্তু পারছে না চাঁদা দিতে হবে। তাহলে, এখানে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তো কমতে থাকবে।

তাহলে সমাজতন্ত্রের এমন পতন ঠেকবে কী করে?
হেলাল হাফিজ : কেরালায় এখনো সমাজতন্ত্র আছে। কিউবায় আছে। রাশিয়া ও চীনে আছে। একেবারে নাই তা কে বলে? মূলত রাশিয়ার পতনের মধ্য দিয়েই সমাজতন্ত্রে এক ধরনের পতন শুরু।

আমরা আবার আপনার প্রসঙ্গে আসতে চাইছি। আপনার বয়স বাড়ছে। শরীরের শক্তি ও সামর্থ্য কমে আসছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু ভাবেন?
হেলাল হাফিজ : এখন একটু একটু ভয় লাগে। বিশেষ করে রাতে যখন একা থাকি, তখন খুব ভয় লাগে। কিন্তু কী আর করব, কিছু করার নেই। আমার তো আর কেউ নেই। এভাবেই কাটাতে হবে সামনের দিনগুলো। হয়তো কেটে যাবে।

এখন মনে হয় যে, বিয়ে করলে ভালো হতো এমন কিছু?
হেলাল হাফিজ : সে কথা বলে লাভ নেই। সময় আর বসে নেই। শরীরও আগের মতো নেই। এভাবে থাকা ছাড়া বিকল্প আর কিছু দেখছি না। খুব ভালো হতো। আমি অনেক ভুল করেছি জীবনে। সেসব ভুলের মাশুল গুনছি। বিয়ে করলে হয়তো আমার জীবনটা অন্য রকম হয়ে যেত।

মৃত্যু নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
হেলাল হাফিজ : মৃত্যুকে তো আমি ভয় পাই না। নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে মরতে হবে। ভয় পাই যেটা, আমি তো একেবারে একা। আমার কেউ নেই। আমি যেন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে না যাই। অসুস্থ হলে তুমিই বা কয়দিন আসবে। তুমি না হয় তিন দিন এলে। চতুর্থ দিন আর আসবে না। কারণ, তোমার তো সংসার আছে। জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে হয়। তুমি প্রতিদিন আসবে কী করে? আমার এখন একটা প্রার্থনা। আমি যখন পড়ে যাব, তখন যেন একটানে পৃথিবী থেকে যাই। উপরিওয়ালা যেন সেটা করেন। এর বেশি আমি কী আর বলব!

আপনাদের সমবয়সী অনেকেই চলে গেছে। আপনি চলে যাওয়া বা মৃত্যু নিয়ে কতটুকু ভাবেন?
হেলাল হাফিজ : ভাবনা তো ভাবি। বয়স বেড়েছে। সহপাঠী বন্ধুরা একে একে বিদায় নিচ্ছে। মাথার ভেতরে প্রায় সেই ভাবনা কাজ করে। আর সিনিয়র কেন, অনেক জুনিয়রও চলে গেছে। রুদ্র (রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লা), আবিদ আজাদ তারা আমার কত ছোট বয়সে। অথচ তারা কত আগে চলে গেছে। ভাবা যায় তারা নেই! আসলে এখানে তো কিছু করার নেই। আবার অনেকেই পরিণত বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। যেমন, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী। আল মাহমুদ জীবন-মৃত্যুর সুতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে ৮০ প্লাস বয়স নিয়ে। যেকোনো মুহূর্তেই চলে যেতে পারে। অনেক সমস্যা নিয়ে সে গৃহবন্দি হয়ে আছে। বয়স বাড়লে যা হয়।

এক বই দিয়েই আপনি জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে গেলেন হেলাল ভাই!
হেলাল হাফিজ : এটাও লিখে রাখো। অনেকেই এখন আমাকে এই কথা বলে। আমি জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে গেছি। আরেকটা কথাও বলে মানুষ, ‘অল্প লিখেও হেলাল হাফিজ গল্প হয়েছেন।’ এইটাও লিখে রাখো। এইটা কোনো কাগজ জানি হেডিং করেছিল। কবিতার রাজকুমার বা সমকালীন বাংলা কবিতার রাজকুমার। এগুলো শুনলে আসলে ভালো লাগে। আমিও তো মানুষ। তাই ভালোবাসাটা আমার ভেতরেও আছে। তুমি চাইলে এগুলো দিয়ে হেডলাইন করতে পারবে। আরেকটা কথা, সবাই জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে।

ভাই, ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’-তে কোনো ধরনের কবিতা বেশি অগ্রাধিকার পাবে?
হেলাল হাফিজ : নাম শুনলেই তো বুঝতে পারো কেমন কবিতা হবে। আমি চেষ্টা করব এমন কিছু পঙ্ক্তি এই বইটিতে সংযোজন করতে যেন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত সবার অন্তরে যেন নাড়া দেয়। যেমন, তোমার বুকের ওড়না আমার প্রেমের জায়নামাজ। এটা ফেসবুকে আছে।
বা ধরো, আমার আরেকটি এক লাইনের কবিতা আছে। নাম ‘থুথু’। থুথু তো তুচ্ছার্থ্যে ব্যবহার করি আমরা। করি না? এই থুথু দিয়ে যখন প্রেমিকাকে চুমু খাবে, তখন থুথু অমৃত! কিংবা তোমার স্ত্রীকে তুমি বা স্বামীকে স্ত্রী যখন চুমু খাবে, তখনো থুথু অমৃত। চুমু খাবে। আলিঙ্গন করবে। জিহ্বা চুষবে। মুখে নেয়। কবিতাটি হলো, ‘থুথুও অমৃত হয় চুম্বকীয় চিকন চুম্বনে।’
এই ধরনের থট। অধিকাংশই কবিতা এ রকম। এই ঘরানার। এ রকম স্কুল অব থটে। স্কুলটা হবে এ রকমের।
আচ্ছা, কবিতা একাত্তরের ১৫টি কবিতাও এই বইয়ে দেব। সেখানের ১৩টি কবিতা আবার সিরিজ কবিতা। ‘অচল প্রেমের গদ্য’ নামে। তবে আলাদা আলাদা শিরোনামের কবিতা। এই কবিতাগুলোও ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ বইয়ে রাখার ইচ্ছে আছে। তাহলে নতুন কবিতা লাগবে ৪১টি। হয়ে যাবে বই।