ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭

আশুরার রোজার ফজিলত

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০১৭ রবিবার, ০৮:৩৯ এএম

আশুরার রোজার ফজিলত

আজ রোববার পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

প্রায় এক হাজার ৩৩৫ বছর আগে এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন।

১০ মহররম হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে  অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়।

এ ছাড়া ১০ মহররম আশুরার দিন মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আবার এদিন কেয়ামত ঘটাবেন। এর বাইরে এদিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছেন, হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান। এ রকম অসংখ্য ঘটনায় তাৎপর্যমণ্ডিত এ দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকে।পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আশুরার রোজার ফজিলত :

আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে আশুরার ফজিলত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিগত এক বছরের সব সগিরা গুনাহ  এই রোজার মাধ্যমে মাফ হয়ে যাবে।’ সেটি শুধু ১০ তারিখে রাখলেও এই ফজিলতটি পাবেন। যদি ৯ তারিখসহ রাখেন তাহলে আল্লাহর রাসুল (সা.) আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে আমি ৯ তারিখেও রোজা রাখব।’ কিন্তু পরবর্তী বছরের জন্য আল্লাহর নবী (সা.) আর হায়াত পাননি। সে ক্ষেত্রে আপনি চাইলে ৯, ১০, ১১ তারিখেও রোজা রাখতে পারেন।

আশুরার রোজার পেছনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। আবদুল ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন মদিনায় এলেন, দেখলেন ইহুদিরা ওই দিন রোজা রাখছে, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা তো ইহুদি তোমরা কেন রোজা রাখছ! তখন তাঁরা বললেন, এই দিন আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা মুসা এবং বনি ইসরাইলকে সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে রাস্তা করে বিজয় দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তাঁর বাহিনীকে সলিল সমাধিস্থ করেছিলেন। আল্লাহ সুবানাহুতায়ালা হকপন্থীদের বিজয় দিয়েছিলেন। এ জন্য মুসা (আ.) এবং বনি ইসরাইল শুকরিয়া প্রকাশ করে রোজা রেখেছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তখন ইহুদিদের বললেন, ‘তোমরা নবী মুসার ধর্মকে বিকৃত করেছ, তোমরা রোজা রাখছ! আর আমরা তো মুসার অধিক হকদার।’ এর পর তিনি রোজা রাখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের নির্দেশ দিলেন রোজা রাখার।

নবী (সা.) কিন্তু এর আগে থেকেই আশুরায় রোজা রাখতেন। অতএব এই রোজাটা হচ্ছে শুকরিয়া আদায়ের রোজা। আল্লাহ সুবাহানাহুতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে বিশাল নির্যাতন থেকে মুক্ত করে সমুদ্রের মধ্য রাস্তা বানিয়ে দিয়ে বিজয় দিয়েছিলেন। তাই এটি শুকরিয়াতান রোজা এবং এর ফজিলতও বেশি।