AD
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

পটিয়ায় ঘুম নেই পাঞ্জাবি কারিগরদের

রবিউল হোসেন, পটিয়া
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০১৭ শুক্রবার, ১২:০৯ এএম
পটিয়ায় ঘুম নেই পাঞ্জাবি কারিগরদের

পাঞ্জাবি  বলতেই বাঙালী সমাজে এর আলাদ কদর। বিশেষ করে মুসলমানদের ঈদুল ফিতরে পাঞ্জাবি ছাড়া যেন অপূর্ণ। পটিয়ায় তৈরিকৃত পাঞ্জাবির কদর রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবান জেলার মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পটিয়া পৌরসদরের ৮নং ওয়ার্ড আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা সড়কের প্রায় ২০টির অধিক দোকানে চলছে পাঞ্জাবি  তৈরির উৎসব। প্রতিটি দোকানে ৫-৬ জনের অধিক কারিগর নির্ঘুম রাত যাপন করে প্রতিদিন ২০-২৫টি নানা ধরনের পাঞ্জাবি  তৈরি করছেন। গ্রাহকদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মাদ্রাসা রোডে এবার নতুন করে কয়েকটি পাঞ্জাবি  তৈরির দোকান গড়ে উঠেছে।

কারিগররা জানান, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দক্ষিন চট্টগ্রামসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুসলমান ধর্মবলম্বীরা এখানে পাঞ্জাবি  তৈরি করতে আসছেন। পবিত্র রমজান আসলে গ্রাহকের চাপে অনেক পাঞ্জাবি  তৈরির দোকানের কারিগররা নিয়মিত ক্রেতা ছাড়া বাইরে অর্ডার নেয়াও বন্ধ রেখেছেন। কারিগররা জানিয়েছে, রমজানের শুরু থেকে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার গ্রাহকদের চাপ বেড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পটিয়া পৌরসদরের ৮নং ওয়ার্ড আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া (জমিরিয়া) মাদ্রাসা রোডে আল-মদিনা টেইলার্স, ইসলামিয়া টেইলার্স, আল-হাবিব টেইলার্স, আহমদিয়া টেইলার্স, মদিনা ক্লথ ষ্টোর, সাতকানিয়া ক্লথ ষ্টোর, আল মক্কা টেইলার্স, আল-দুবাই টেইলার্স, হক টেইলার্স, নিউ আল-আরব টেইলার্স, পাঞ্জাব ফেব্রিক্স, বাগদাদ টেইলার্স, আলিফ টেইলার্স, রহমানিয়া টেইলার্স, আল-জামিয়া টেইলার্স, আল-আমিন টেইলার্স, গাজী টেইলার্স, এরাবিয়ান টেইলার্স, আল-মাদানি টেইলার্স, আল-জামিয়া টেইলার্সসহ ২০টির অধিক টেইলার্স রয়েছে যেখানে পাঞ্জাবি  তৈরি করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কয়েকটি দোকানে আবার পাঞ্জবীর কাপড়ও কেনা বেচা হয়। এসব দোকানেও পাঞ্জাবি র কাপড় বিক্রি চলছে পুরো ধমে। আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া (জমিরিয়া) মাদ্রাসার ছাত্র শোয়েব জিয়া বলেন, পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামী মাদ্রাসার বেশিরভাগ ছাত্ররাই মাদ্রাসা রোর্ডের পাঞ্জাবি  তৈরির দোকানগুলো থেকেই পাঞ্জাবি  তৈরি করে।

তবে রমজান মাসে মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্ররাও মাদ্রাসা রোডের টেইলার্সের দোকানগুলো থেকে পাঞ্জাবি  সেলাইয়ের জন্য আসে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও আন্দরকিল্লা ছাড়া পটিয়া হলো পাঞ্জাবি  তৈরির সেরা জায়গা। তাই পটিয়া তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মাদ্রাসার বেশিরভাগ ছাত্ররাই এখান থেকে পাঞ্জাবি  তৈরি করে নিয়ে যায়। বাঁশখালী থেকে পাঞ্জাবি  সেলাইয়ের জন্য আসা হাফেজ দিদারুল আলম জানায়, এখানকার তৈরি করা পাঞ্জাবি গুলোর সেলাইয়ের মান অনেক ভাল। কারুকাজ গুলোও সুচারুরূপে করা হয় বলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও পাঞ্জাবি  সেলাই করার জন্য এখানে আসে। তিনি বিগত দুই বছর ধরে মাদ্রাসা রোর্ডের টেইলার্সের দোকান থেকে পাঞ্জাবি  সেলাই করে আসছেন।

পটিয়া গাজী টেইলার্সের পরিচালক জমির হোসেন জানান, রমজান মাসে সকল মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানো পাঞ্জাবি  তৈরির জন্য আসে। বিগত কয়েক বছর পাঞ্জাবি  তৈরির হার অনেক গুন বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, সাধারণ পাঞ্জাবি  ৩’শ, ডিজাইন করা ৫’শ ও এমব্রইডারি হলে ৮’শ টাকা পর্যন্ত একটি পাঞ্জাবি  তৈরিতে নেয়া হয়। তার দোকানে তিনিসহ ৬জন কারিগর দিনরাত পাঞ্জাবি  তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আল আমিন টেইলার্সের মালিক আবুদল মাবুদ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের অনেক এলাকা থেকে এখানে পাঞ্জাবি  সেলাই জন্য লোকজন আসে। রমজান আসলেই পাঞ্জাবি  সেলাইয়ের কাজ বেড়ে যায় এখানে। কারিগরদের কাজের উপর ভরসা করে অর্ডার নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানকার পাঞ্জাবি  দোকানই রমজানে বেশি কাজ হয়ে থাকে। রমজান মাসে প্রতিটি দোকানে কমপক্ষে ৭শ’ থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত পাঞ্জাবি  তৈরি করে থাকেন।

এছাড়াও পটিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে কয়েকটি টেইলার্স ও উপজেলার জিরি মাদ্রাসা এলাকায় কয়েকটি টেইলার্সের দোকানে পাঞ্জাবি  সেলাইয়ের কাজ চলে।