ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮

চট্টগ্রাম থেকেই এলএনজির যাত্রা

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার, ০৮:৩৬ এএম

চট্টগ্রাম থেকেই এলএনজির যাত্রা

দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রথম চালান নিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ভিড়েছে বিশেষায়িত জাহাজ ‘এক্সিলেন্স’।

মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) বেলা দুইটায় মাতারবাড়ী উপকূল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে জাহাজটি নোঙর করে।এসব তথ্য জানান ‘এক্সিলেন্স’র স্থানীয় এজেন্ট সীকম শিপিং লাইন্স লিমিটেডের পরিচালক জহুর আহমেদ।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইনের কমিশনিং (গ্যাস ঢুকিয়ে সফল পরীক্ষা) সম্পন্ন করা হয়েছে। জাহাজটি গ্যাস খালাস করতে নানা প্রক্রিয়া রয়েছে। তা করতে এক মাস সময় লাগবে। খালাস ও বিতরণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরই মধ্যে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইনের কমিশনিং (গ্যাস ঢুকিয়ে সফল পরীক্ষা) সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন আনোয়ারা থেকে সীকাকুণ্ড পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের আরও ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের কাজ চলছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা জানান, যদি সীতাকুণ্ড পর্যন্ত পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ না হয় তবে আপাতত এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস শুধু চট্টগ্রামে সরবরাহ দেওয়া হবে।

সীকম শিপিং লাইন্স লিমিটেডের পরিচালক জহুর আহমেদ জানান, ২৭৭ মিটার লম্বা, ৪৪ মিটার প্রস্থ এবং ১২ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এ জাহাজে রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরল গ্যাস।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় জাহাজ আগে আসেনি। এটি সবচেয়ে বড় বিশেষায়িত জাহাজ। আমেরিকান কোম্পানির জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশে আসছে। এরপর এটি ব্যবহৃত হবে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) হিসেবে। জাহাজটি উপকূল থেকে দূরে অবস্থান করবে ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে। ১৫ বছর বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ ভাড়া পাবে। এরপর এটি বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় চলে আসবে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসকে শীতলকরণ (রেফ্রিজারেশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে তরলে (এলএনজি) পরিণত করা হয়। ‘এক্সিলেন্স’ ‍জাহাজটিতে এলএনজিকে সমুদ্রের পানির উষ্ণতা ব্যবহার করে আবার প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক–ই–ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমদানির এলএনজি থেকে চট্টগ্রামে দৈনিক ৩০০ থেকে সাড়ে তিন’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হবে। বাকিটা পাঠানো হবে ঢাকায়। এর ফলে চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জায়গায় গ্যাসের যে চাহিদা রয়েছে তা অনেকটা মিটবে। আমদানির ফলে আমরা এখন নতুন সংযোগও দিতে পারব।

দেশে মোটামুটি ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলার হিসাবে সোমবার সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে গ্যাসের উৎপাদন সীমিত হওয়ায় চাহিদা থাকার পরও সার, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত এবং বাসাবাড়ি ও বাণজ্যিক খাতে সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।