ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮

পটিয়ায় এক ইউনিয়নে ৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র

রবিউল হোসেন, পটিয়া

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার, ০৯:১০ পিএম

পটিয়ায় এক ইউনিয়নে ৪ বিদ্যুৎকেন্দ্র

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ঘনবসতি এলাকায় একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হওয়ায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেয়া দিয়েছে। নতুন করে আরে ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করায় গত কয়েকদিন এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজানা বিরাজ করছে। ঘনবসতি এলাকায় এসব নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে হাজারো পরিবার ঘর-বাড়ি ছাড়া হবে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদী ঘেষে যাওয়া পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে মানুষের বসবাসের পরিমাণ বেশি। ঘনবসতি হওয়ায় প্রত্যেক বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে ওই এলাকাগুলো বেশিরভাগ ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যদিও এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে কোন ধরনের মতামত নেয়া হয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঘনবসতি এলাকায় একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করায় ইতিমধ্যে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হতে শুরু করেছে। যদিও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের পদক্ষেপ নেই।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কোলাগাঁও নয়া রাস্তার মাথা এলাকায় এনার্জি প্যাক নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সালের দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু করে। এরপর থেকেই শুরু হয় ওই এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ। শত শত পরিবার খাবার পানির সংকটে পড়ে। এতে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তা সুফল পাওয়া যায়নি। এনার্জি প্যাক ছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি ভাবে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এগুলো হলো মেঘনা গ্র“পের আকলিমা পাওয়ার প্লান্ট, আল বারাকা পাওয়ার প্লান্ট, কনফিডেন্স গ্র“পের জুডিএড পাওয়ার প্লান্টসহ ৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সামশুল ইসলাম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যুৎ প্লান্টগুলো সরকারি ভাবে যথাযথ অনুমতি নিয়ে করা হচ্ছে। কিছু অতিউৎসাহী এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সুবিধা না পাওয়ায় এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়ন কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে। ওই এলাকার নদীর তীরে এনার্জি প্যাক কোম্পানী ১০৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সর্বপ্রথম নির্মাণ করে। যা চালু রয়েছে। বর্তমানে ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে আরো ৩টি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। খাস জায়গা ও ছড়া খাল ভরাট করে লোকালয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে গ্রামবাসী তাদের প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ক্ষোভের ঝড় তুলেছেন। এক দেড় কিলোমিটারের মধ্যে পুরাতনসহ ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইঞ্জিন ২৪ ঘন্টা চালু থাকলে শব্দ দুষন ও ধোঁয়ায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যয় হওয়ার আংশকা রয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুত কেন্দ্র ও কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারণে কোলাগাঁও এলাকায় টিউওয়েলের পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। ফলে ওই এলাকার লোকজন টিউবওয়েলের পানি পান করতে না পারায় বিভিন্ন রোগব্যাধিতে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন। নির্মানাধীন ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে কমপক্ষে ৩ হাজার লোকের বসতি ছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দু’টি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রতিদিন লেখাপড়া করে থাকেন। বর্তমানে এসব এলাকায় নতুন করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য পুরোধমে চলছে গাছ কাটা। এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ পারভেজ হোসেন রানা বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে থেকে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ প্লান্টসহ কারখানার কারনে এলাকার টিউবওয়েলের পানি পর্যন্ত উঠা বন্ধ হয়ে গেছে। জীবিকা নির্বাহের জন্য সকালে বাড়ি থেকে চলে যায় পরিবারের আহার জোগার করতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এত কষ্ট করে যখন রাতে ঘুমাতে যায় আমরা ঘুমাতে পারিনা। তরতর করে ঘরবাড়ি কাঁপতে থাকে। মনেহয় যেন এখনি ভূমিকম্প হবে। এমতাবস্থায় যদি একেরপর এক বিদ্যুৎ প্লান নির্মাণ করা হয় তাহলে আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। স্থানীয় সরকারী দলের কিছু লোক কোম্পানিগুলোর পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। তাই এসবের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে মামলা হামলার ভয় দেখানো হয়।

কোলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ নূর জানিয়েছেন, তাদের এলাকার সীমানায় শিকলবাহা এলাকায় রয়েছে আরো ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তাছাড়া কোলাগাঁও এলাকায় এনার্জি প্যাকের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও নতুন করে আরো ৩টি বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র লোকালয়ে নির্মাণের কাজ শুরু করায় গ্রামবাসী দিন দিন ক্ষোভে ফুঁসছে। এক শ্রেণীর লোভী কিছু ব্যক্তি সরকারি খাস জায়গা বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) অবহিত করেছেন বলে জানান।