AD
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের মাথায় হাত

সারাবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার, ০৯:২৫ এএম
ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের মাথায় হাত

বন্দরনগরীর জামালখানের বাসিন্দা প্রদ্যুৎ দাশ।  পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দীর্ঘ চাকরী জীবন শেষ করে অবসরে যান ২০১২ সালে। এককালীন পেনশনের ২০ লাখ টাকা পেয়ে ওই সময় ১২ শতাংশ সুদ হারে আমানত রাখেন একটি ব্যাংকে। তিন মাস মেয়াদি আমানত হিসাবের সুদ থেকে কর ও বিভিন্ন চার্জ কাটার পর প্রথম দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে পেতেন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এসময় তার বাসা ভাড়া দিতেন ১০ হাজার টাকা। আর বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল মিলে খরচ হতো ১২ থেকে ১৪শ টাকা।

কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে আমানতের সুদহার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসায় প্রদ্যুৎ দাশ তার একমাত্র সঞ্চয় থেকে এখন মাসে পাচ্ছেন ৮ হাজার ৩শ টাকা। অথচ এই সময়ে তার বাসা ভাড়া ৫ হাজার টাকা বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আর গ্যাস-বিদ্যুতের বিলও প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। এছাড়াও প্রতিবছর জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৭ শতাংশ।

সার্বিক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, ৫ বছর আগে প্রদ্যুৎ দাশ তার আমানত থেকে যে সুদ পেতেন তা এখন নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। পক্ষান্তরে তার পারিবারিক ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এরফলে ব্যাংকের মুনাফায় চলা সংসার এখন আর চলছে না। এমতাবস্থায় পরিবার নিয়ে তিনি পড়ছেন বিপাকে। তাই কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

এমন চিত্র শুধু এনাম হোসেনের ক্ষেত্রেই নয়, অনেক সরকারি চাকুরিজীবী এবং প্রবাসীদের পরিবারও আমানত রেখেছেন ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার আশায়।তাদের কেউ সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য, কেউ আবার মেয়ের বিয়ের জন্য। কিন্তু সেই আমানত এখন পড়েছে হুমকির মুখে।

বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমানতের সুদহার শুধু নিচেই নামেনি, মূল্যস্ফীতির হার থেকেও নিচে নেমে গেছে; যা খুবই বিপজ্জনক। এতে আমানতকারীরা একদিকে ব্যাংকে আমানত রাখার ক্ষেত্রে বিমুখ হবেন। অন্যদিকে অনেকে আবার অর্থ পাচারে জড়িয়ে পড়বেন। যা ব্যাংকিং খাতের জন্য দু:সংবাদ বয়ে আনবে। এছাড়াও মানুষের হাতে পুঁজি আটকে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো অর্থনীতি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫৭টি তফসিলি ব্যাংকে আমানত হিসাবের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। এসব হিসাবের বিপরীতে আমানতের পরিমাণ ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যার অর্ধেকের বেশি মেয়াদি আমানত। অার সঞ্চয়ী আমানত রয়েছে ২০ শতাংশের একটু বেশি। মোট আমানতের মধ্যে বেসরকারি খাতের অংশ ৮৩ শতাংশের ওপরে। বাকিটা সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের।
এই ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টির আমানতের সুদহার বর্তমানে ৫ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে ১৩টি বেসরকারি ব্যাংক, ৮টি বিদেশি ব্যাংক এবং ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক রয়েছে। বাকী ব্যাংগুলোর অধিকাংশের সুদ হারও ৫ শতাংশের কাছাকাছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের (২০১৬-১৭) মে মাস শেষে আমানতের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকে আমানতের সুদহার গড়ে ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকের সুদহার অবশ্য ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি ব্যাংকে আমানতের গড় সুদহার ৫ দশমিক ২১ শতাংশ।
আমানতের উপর ৫ শতাংশের কম সুদ দেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে-অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, এইচএসবিসি এবং ব্যাংক আলফালাহ লিমিটেড। আর বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, পূবালী, উত্তরা, ইস্টার্ণ, প্রাইম, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট, ব্র্যাক এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।

গত পাঁচ বছরে আমানতের সুদহার কমেছে ৮ শতাংশের ওপরে। ২০১২ সালে সুদ ছিল সাড়ে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশের নিচে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নেমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা রোধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু সেই নির্দেশ মানছে না কোন ব্যাংকই।
আমানতে সুদ কমে যাওয়ায় বাড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। যা সরকারের ঋণ গ্রহণের অতীতের সব রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। গত অর্থবছরের ১১ মাসেই প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আড়াই গুণ এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়েও ২ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল। বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় উদ্বেগজনক হারে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি বলেন, আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় মানুষ সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন। ইতিমধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। কারণ সরকারকে অতিরিক্ত সুদ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে হচ্ছে।

আমানতের সুদহার কমে যাওয়ায় অর্থ পাচারের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি এম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমানতের সুদহার কমে যাওয়া খুবই উদ্বেগজনক বিষয়। কারণ সুদ হার কমে যাওয়া মানে প্রকৃত অর্থে গ্রাহকের মূলধন কমে যাওয়া। এর ফলে মানুষ আমানত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। বড় বড় আমানতকারীরা অর্থ পাচারের দিকে ঝুঁকবে। অন্যদিকে কেউ কেউ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়াবে। আর এতে সরকারের ব্যয় বেড়ে যাবে। কারণ সরকারকেই সঞ্চয়পত্রের সুদ দিতে হবে।
এর ফলে বিনিয়োগও বাধাগ্রস্থ হবে মন্তব্য করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আমানত কমে গেলে তারল্য সংকট দেখা দিবে ব্যাংকগুলোতে। বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে হোঁচট খাবে তারা। এতে দেশে বিনিয়োগও কমে যেতে পারে।

সঞ্চয়পত্রেও পরিবর্তন :

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দেয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ করতে হলে সরকারকে অর্থের উৎস জানাতে হবে। এ খাতে বিনিয়োগে দুই স্তরবিশিষ্ট সুদ চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। সম্প্রতি সঞ্চয়পত্র বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাতে ঋণের চাহিদা না থাকায় বর্তমানে আমানতের সুদের গড় হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। শেয়ারবাজারের অবস্থাও নাজুক। ফলে টাকা বিনিয়োগের এ দুই বড় ক্ষেত্র থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য মানুষ সরকারি সঞ্চয়পত্রের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। অন্য যেকোনো খাতে বিনিয়োগের তুলনায় এখানে মুনাফার হার প্রায় দ্বিগুণ, গড়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ। তাছাড়া এ খাতে বিনিয়োগে অর্থের উৎস সম্পর্কে এখনও কোনো প্রশ্ন করা হয় না। আর এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা সরকারের।

মূলত সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা দেয়ার জন্য সরকার নিম্ন মধ্যবিত্ত, সীমিত আয়ের মানুষ, বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এ প্রকল্প চালু করে। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের এই মুনাফা অধিকাংশ ভোগ করছে সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ কারণেই এ খাতে বিনিয়োগে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ। সংশোধনগুলো করা হলে রাষ্ট্র ও প্রকৃত সুবিধাভোগীরা উপকৃত হবেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, নিম্নবিত্ত মানুষ যেন এতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।

এদিকে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের বিনিয়োগে ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে সঞ্চয় স্কিমের বিধি-বিধানে এমন পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর। সম্প্রতি এ প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সঞ্চয়পত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি। অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা স্বাক্ষরিত ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পেনশনার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্যান্য সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগসীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বর্তমানে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। আর প্রতিষ্ঠানের বেলায় কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। যেসব সঞ্চয় স্কিমে যুগ্ম নামে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা বন্ধ করার প্রস্তাবও এসেছে অধিদফতর থেকে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান ও নাবালকের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বন্ধের প্রস্তাব করেছে অধিদফতর।

সঞ্চয়পত্রের যেকোনো স্কিমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর আয়ের উৎস জানানোর বিধান চালুর প্রস্তাব করেছে সঞ্চয় অধিদফতর। একই সঙ্গে নারী, প্রতিবন্ধী ও সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার সঞ্চয়পত্রে অনধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফার হার আরও আকর্ষণীয় করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।
বৈঠকে এর সুদের হার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে আমানতের সুদের গড় হার ৫ শতাংশের নিচে। এর সঙ্গে মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও ৭ বা ৮ শতাংশ করা উচিত বলে মনে করে অর্থ বিভাগ। কারণ সাধারণত ব্যাংক আমানতের সুদের হারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১ বা ২ শতাংশ বেশি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এ ব্যবধান ৪ শতাংশের বেশি। তাছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে এ খাত থেকে ঋণের পরিমাণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা মুশকিল। ফলে সুদ বাবদ সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে, যা স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তাছাড়া সরকারের সম্পদ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার রিভিউ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে অর্থ বিভাগ বলছে, যেহেতু বর্তমানে এটি নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র তাই এ খাতে দুই স্তর সুদ হার প্রবর্তন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পারিবারিক ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রসহ সবগুলোয় ৩০ লাখের বেশি বিনিয়োগ হলে কমে যাওয়া সুদ দেয়া হবে। আর ৩০ লাখের কম বিনিয়োগ হলে বিদ্যমান ১১ থেকে ১২ শতাংশ হারে সুদ দেয়া হবে।

এর আগে গেল বছরের ২৩ মে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশ কমানো হয়েছে। এতে পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ হার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। পেনশনার সুদ হার সঞ্চয়পত্রের ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের বর্তমান সুদ হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, আগে ছিল ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদ হার ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদি ও সাধারণ হিসাবে বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ হারে সুদ দেয়া হচ্ছে। আগে দেয়া হতো ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের (৫ বছর মেয়াদি) সুদের হার আগের মতো ১২ শতাংশই রাখা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা প্রিমিয়াম নামে আরও এক থেকে দেড় শতাংশ সরকার থেকে ভর্তুকি দেয়া হতো। সেটিও তুলে দেয়া হয়েছে। ফলে মুনাফার হার আরও কমে গেছে।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার যে কমানো হবে তা অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকবার বলেছেন। অর্থমন্ত্রী জানান, অনন্তকালের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্দিষ্ট থাকতে পারে না। সুদের হারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে, মূল্যস্ফীতি বাড়লে সুদের হার বাড়ে আর মূল্যস্ফীতি কমলে সুদের হার কমে। বিষয়টি তাই আমাদের পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে সরকার নিট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। অথচ গেল এপ্রিলে বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।