ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭

মুকুট পড়লেন জেসিয়া, এভ্রিল-হিমি বাদ

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৮:৪৯ এএম

মুকুট পড়লেন জেসিয়া, এভ্রিল-হিমি বাদ

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল নয়, ২০১৭ সালের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন জেসিয়া ইসলাম। আজ বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
অন্তর শোবিজ এবং ওমিকন এন্টারটেইনমেন্ট রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রথমে ঘোষণা করা লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল বিবাহিত এবং এই তথ্য তিনি গোপন করায় মুকুটের অযোগ্য বিবেচিত হন। পরে আজ সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হিসেবে জেসিয়া ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।

নাম ঘোষণার আগে বিবি রাসেল নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের কথাই বারবার উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় বিচারকদের রায়ে প্রথম হন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। তিনি পান সব মিলিয়ে ৫১ নম্বর। এরপর ৪৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হন জেসিয়া ইসলাম। আর তাঁর চেয়ে এক নম্বর কম পেয়ে তৃতীয় হন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার আয়োজকদের কাছে এভ্রিলের বিয়ের তথ্য পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা জানায়, তিনি বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন এবং এখন যদি ‘সিঙ্গেল’ হন, তাহলে সেটি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু যেহেতু তিনি বিয়ে ও বিচ্ছেদের তথ্য গোপন করেছেন সেটি একধরনের অসততা। সে কারণেই তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

আয়োজকরা আরো জানান, প্রথম রানার আপ বা দ্বিতীয় রানার আপের মধ্য থেকে যে কোনো একজনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন বিচারকরা। এখন এটি বিচারকদের সিদ্ধান্ত। পরে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে জেসিয়া ইসলামকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লাভেলোর চেয়ারম্যান ইকরামুল হক, অন্তর শো বিজের কর্ণধার স্বপন চৌধুরী, বিচারক শম্পা রেজা, চঞ্চল মাহমুদ, বিবি রাসেলসহ অন্যরা।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিচারকরা চূড়ান্ত বিজয়ীকে নির্বাচন করেন। প্রায় ২৫ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ নির্বাচিত হন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। তবে সে সময় মঞ্চে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তাঁর নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এরপরই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি বিবাহিত। পরে বিচ্ছেদ হলেও সে তথ্য গোপন করেন তিনি। আর এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে বিয়ের কথা স্বীকার করেন এভ্রিল। অবশ্য সেটি অনেক ছোট বয়সে এবং তাঁর ইচ্ছার বিপরীতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

লাভেলার দূত হলে এভ্রিল

হারিয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ। বিয়ে ও বিচ্ছেদের কথা গোপন করার দায়ে তাঁর মাথা থেকে নেমে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট উঠেছে আরেকজনের মাথায়। তবে একেবারে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না এভ্রিলকে। প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর লাভেলো আইসক্রিম তাঁকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নিযুক্ত করেছে।

বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন লাভেলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হক।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হিসেবে জেসিয়া ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের নাম। এরপর গত ছয়দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এভ্রিল ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নাম। বিজয়ী হওয়ার পর গণমাধ্যমে উঠে আসে তাঁর বিয়ে ও বিচ্ছেদের খবর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক লাইভে এসে বিয়ে ও বিচ্ছেদের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, সে সময় বয়স কম থাকায় মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

বাদ পড়লেন হিমিও

প্রথমবার বিজয়ী হওয়া জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছেন। খবরটি এখন পুরোনো। নতুন যে সংযোজন হলো, তাঁর সঙ্গে শীর্ষ তিনজনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রথমবার দ্বিতীয় রানার আপ হওয়া জান্নাতুল সুমাইয়া হিমিও।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয় প্রথমবার ঘোষিত তালিকার প্রথম রানার আপ জেসিয়া ইসলামের নাম।

হিসাব অনুযায়ী গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে দ্বিতীয় রানার আপ জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির এবার প্রথম রানার আপ হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি।

বরং প্রথম রানার আপ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ফাতেমা তুজ জাহরার নাম। এরপর দ্বিতীয় রানার আপ হিসেবে দুজনের নাম ঘোষণা করা হয়। এরা হলেন চমক ও সঞ্চিতা। এরপর যে ১০ জনের নাম ঘোষণা করা হয় তার মধ্যেও ছিল না জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির নাম।

এমনকি অনুষ্ঠানে উপস্থিতও ছিলেন না হিমি। তিনি কেন উপস্থিত নেই জানতে চাইলে আয়োজনরা স্রেফ জানান, সে আজ অনুপস্থিত। এর বেশি কেউ কিছু বলতে রাজি হননি।

প্রায় দেড় মাস যাচাই-বাছাইয়ের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয় প্রতিযোগীর নাম। বিজয়ী হন চট্টগ্রামের মেয়ে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। তবে প্রথমে জান্নাতুল সুমাইয়া হিমিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হিমি নন, বিজয়ী হয়েছেন এভ্রিল। আর হিমি হয়েছেন দ্বিতীয় রানারআপ।