ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮

দুর্বৃত্তের কবলে টানেল প্রকল্পের ৬ বিদেশী

আনোয়ারা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০১৮ শনিবার, ০৮:৩৪ এএম

দুর্বৃত্তের কবলে টানেল প্রকল্পের ৬ বিদেশী

কর্ণফুলী থানার রাঙ্গাদিয়া এলাকায় এবার দুর্বৃত্তের কবলে পড়েছেন কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের ৬ বিদেশি কর্মকর্তা। এ সময় এক বিদেশি মারধরের শিকার হন। এসব চীনা নাগরিক চায়না কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিসিসি) অধীনে কর্ণফুলী টানেলের কাজ করছিল। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইলাইজার কোম্পানি (কাফকো) ফ্যাক্টরি এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। বর্তমানে এই প্রকল্পে প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা মিলিয়ে অর্ধশত বিদেশি কাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, টানেল প্রকল্পের ৬ চীনা কর্মকর্তা শুক্রবার দুপুরের কাজের ফাঁকে কাফকো ফ্যাক্টরির পশ্চিমে ঝাউ বাগানের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে ৩ যুবক অস্ত্রের মুখে বিদেশিদের জিম্মি করে। হাং জেন, চেন হাইওয়াই, শি জিংকি, লি জিমিং,হি ইয়ামবু, জাং চিংগিং এই ৬ জনকে প্রায় এক ঘন্টা জিম্মি করে রাখে দুবৃত্তরা।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে জানান, আক্রান্ত বিদেশী নাগরিকদের কাছ থেকে একটি আইফোন সেভেন, তিনটি হুয়ায়ে, একটি শাওমি ও একটি ভিবো মোবাইল সেট নগদ সাড়ে বার হাজার টাকা, একটি ব্যাংক কার্ড, একটি চায়না আইডি কার্ড ও একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। দুবৃত্তরা ছিল সংখ্যা ৩ জন। এর মধ্যে ২ জনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রত্যেকের হাতে চুরিসহ অন্য দেশীয় অস্ত্র ছিল। এ সময় চন হাওয়াই নামে এক চীনা নাগরিককে পিটিয়ে আহত করা হয়।

খবর পেয়ে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি, কর্ণফুলী থানা পুলিশ ও আনোয়ারা থানা পুলিশ একযোগে দুর্বৃত্তদের ধরতে অভিযানে নামে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ৬ বিদেশী নাগরিক বন্দর গোয়ালপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন।তারা দীর্ঘদিন এই প্রকল্পে কাজ করছিল। ছিনতাইয়ের কারণে তারা যত না মর্মাহত তার সাথে বেশি ভয় পেয়েছেন এক চীনা নাগরিককে মারধর করায়। আক্রান্তদের একজনের বরাত দিয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন , ২০১৬ সালের আগস্টে যখন বিভিন্ন এলাকায়

বিদেশীদের উপর হামলা হচ্ছিল তখনও এসব চীনা কর্মকর্তারা কোন ধরনের ভয় বা আতংক অনুভব করেনি। অন্তরঙ্গতার মধ্যে স্থানীয়দের সাথে মিলেমিশে তারা কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় তারা মুষড়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলায়মান এ ঘটনায উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, এমন গর্হিত ঘটনায় বিদেশী কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। যেকোন মূল্যে দুর্বৃত্তদের ধরে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কফিল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টানেল প্রকল্পের ৬ চীনা নাগরিক ছিনতাইয়ের শিকার ও একজনকে মারধরের খবর শুনেছেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অভিযোগ দেয়নি।

তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কর্ণফুলী থানায় এ সংক্রান্ত মামলা দাযেরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য সেতুর তলদেশে টানেল প্রকল্পের মূল কাজ শুরু না হলেও `চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের-ফোরসি` এর তত্ত্বাবধানে আনোয়ারা অংশে চারটি খননযন্ত্রের মাধ্যমে চলছে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ডিএপি সার কারখানা ও কাফকোর মাঝামাঝি মাঝেরচর এলাকায় প্রকল্পের সাইট অফিস, আবাসস্থল ও যন্ত্রপাতি রাখার জন্য মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ছিনতাইয়ের শিকার চীনা কর্মকর্তারা এসব কাজ দেখভাল করছিলেন।