ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

দুই ভাই এলেন লাশ হয়ে

রবিউল হোসেন, পটিয়া

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার, ১০:১০ পিএম

দুই ভাই এলেন লাশ হয়ে

সব ঠিকঠাক ছিল, দেশে ফিরবেন দুই সহোদর হাফেজ আবদুল হালিম(২৮) ও মো. সেলিম(২২)। বিমানের টিকেট হাতে নিয়ে মায়ের সাথে রাত ১০টায় ফোনে কথা হয়। রাত ১২টায় খবর আসে দুই ছেলে সড়ক দূর্ঘটনায় আর বেঁচে নেই। তারা পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মজুমদার পাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

গত ১০ নভেম্বর মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ওমানে তাদের মৃত্যু হলে সোমবার সকালে দেশে আসে তাদের লাশ। সোমবার আসরের নামাজের পর পটিয়া জিরি মাদ্রাসা মাঠে দুই সহোদর ভাইয়ের নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে এলাকার শোকের ছায়া নেমে আসে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মজুমদার এলাকার মৃতনুরুল ইসলামের ছেলে হাফেজ আবদুল হালিম বিগত ৩ বছর আগে ওমানে পাড়ি জমাই। বিগত ছয় মাস আগে সবার ছোট ভাই মো. সেলিমও ওমানে যায় ভাইয়ের সাথে কাজ করতে। দুই ভাই মিলে ওমানে একটি লন্ড্রি দোকানে কাজ করতেন।

হালিমের প্রতিবেশী স্থানীয় আবু শহীদ রমজান জানান, নভেম্বর মাসের শুরুতেই দুই ভাই এক সাথে দেশে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করে। সেজন্য বিমানের টিকেটও কিনে নেয়। ১২ নভেম্বর ওমান থেকে রওনা দেয়ার কথা ছিল এবং ১৩ নভেম্বর সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। সব ঠিকটাক ছিল দেশে ফেরার। ১০ নভেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় হালিম ও সেলিম দুজনই দেশে মায়ের সাথে কথা বলেন। টিকেট চূড়ান্ত করেছে সেটি জানানোর জন্য মোবাইল ফোনে কথা শেষ না করতেই একই দিন রাত ১২টার পর ওমান থেকে খবর আসে হালিম ও সেলিম সাইকেল দূর্ঘটনায় মর্মান্তিক ভাবে মারা গেছে।

তিনি আরো বলেন, দুইভাই জীবিত দেশে ফেরার কথা থাকলেও ২০ নভেম্বর সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে লাশ হয়েই আসেন। এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাড়ি পটিয়া জিরি মুজমদারপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার আসরের নামাজের পর দুই সহোদর ভাইয়ের নামাজে জানাযা জিরি মাদ্রাসা মাঠে সম্পন্ন হলে পরে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন জিরি মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব। দুই ভাইয়ের নামাজে জানাযায় অংশ নিতে হাজারো মানুষের ঢল নামে বলেও তিনি জানান।

জিরি ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার লুৎফর রহমান লুতু জানান, সোমবার সকালের দুই ভাইয়ের লাশ চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে এসে পৌছালে সকল পক্রিয়া শেষ করে দুপুর আড়াইটায় গ্রামের বাড়ি পটিয়া জিরি গ্রামে আসে। লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসলে তাদের স্বজনদের আহাজারীতে আশেপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। তারা ৬ ভাই ও বোন। হালিম ভাইদের মধ্যে চতুর্থ ও সেলিম সবার ছোট ছিল।