ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

সেলফির পর সাঁতার কেটে ফিরল না মামুন

মিরসরাই প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০১৭ শনিবার, ০৮:৩৭ এএম

সেলফির পর সাঁতার কেটে ফিরল না মামুন মামুনের শেষ সেলফি

বন্ধুদের সাথে শেষ সেলফি তুলে সাঁতার কাটতে নেমেছিল ঝর্ণার পানিতে। ৫ বন্ধু ফিরলেও আর ফেরা হয়নি শাহাদাত হোসেন মামুনের (২২)। অবশেষে ৫ বন্ধু মিলেই অপর বন্ধুর লাশ নিয়ে ফিরলো। ৬ জনই চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। শুক্রবার মীরসরাই উপজেলার নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার ৪ ঘন্টা পর চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দল মামুনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। সে চট্টগ্রামের ঈদগাহ এলাকার প্রবাসী মতিউর রহমানের পুত্র। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার শস্যদি গ্রামে। ৩ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় ।

শুক্রবার ছুটির দিন ঝর্ণা দেখতে যায় চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ২য় বর্ষের ছাত্র মামুন, সিফাত, আশিক, সচল, তুহিন ও মহিন। সকালে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়ে মীরসরাইয়ের নয়দুয়ারিয়া নেমে দুপুর ১২টায় নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় পৌঁছে। এক পর্যায়ে দুপুর দেড়টার পর ঝর্ণার পানিতে সাঁতার কাটতে নামে। সকলে সাঁতার কেটে ফিরলেও মামুন আর ফিরে আসেনি। বন্ধুরা খুঁজে না পেয়ে এক পর্যায়ে মীরসরাই ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ক্যাম্প ইনচার্জ আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস দল দুপুর ৩টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ২ ঘন্টা চেষ্টা করেও উক্ত টিম মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি।

অবশেষে ৫টার পর যোগ দেয় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল। সন্ধ্যা ৬টায় ডুবুরি দল লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে মীরসরাই থানার এসআই কামাল হোসেনের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

একই সাথে আসা অপর বন্ধু শিফাত জানায়, দুপুর ১২টার দিকে তারা পৌঁছায় উপজেলার উক্ত নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায়। পৌঁছার পর একসাথে অনেক ছবিও তুলেছে। অনেক আনন্দ হচ্ছিল। কিন্তু এখন কান্না ছাড়া আর কিছু রইলো না। এসময় ৫ বন্ধু মামুনের মৃতদেহ নিয়ে থানায় যাওয়ার সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে অঝরে কাঁদতে দেখা যায়। আবার মৃতদেহ নিতে এসে বাবা মতিয়ার রহমান মূর্ছা যায়। মীরসরাই সার্কেলের এএসপি মশিয়ার রহমান জানান, মামুনের মৃতদেহ তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।