ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭

শিবির ক্যাডার নাছিরের ৫ বছর জেল

সারাবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৮:০১ এএম

শিবির ক্যাডার নাছিরের ৫ বছর জেল

পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই দশক আগের এক মামলায় চট্টগ্রামে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডার নাসির উদ্দিনের পাঁচ বছর তিন মাস কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম শফিউদ্দিন বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পিপি রায়হাদ চৌধুরী রনি বলেন, পুলিশের কাজে বাধাদান, হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনটি ধারায় আসামি নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।এজন্য আদালত থেকে তিন ধারায় তার মোট পাঁচ বছর তিন মাস কারাদণ্ডের রায় এসেছে। এই সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে।”

তিনি জানান, রায়ে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় তিন মাস কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাভোগ দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, দ–বিধির ৩৫৩ ধারার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ৩ বছর সশ্রম কারাদ-, ৫ হাজার টাকা অর্থদ– অনাদায়ে আরো তিনমাস, ৩৩২ ধারার অভিযোগে ২ বছর সশ্রম কারাদ-, ৫ হাজার টাকা অর্থদ– অনাদায়ে আরো তিনমাস, ১৮৬ ধারার অভিযোগে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদ-, ৫শ টাকা অর্থদ– অনাদায়ে আরো ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদ– দিয়েছেন আদালত।

গতকাল কড়া পুলিশ পাহারায় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার রায়ের তারিখ নাসির কারাগার থেকে আদালতে আসতে রাজি না হওয়ায় রায়ের তারিখ পিছিয়ে যায়। রায়ের পর কারাগারে ফিরিয়ে নেয়ার সময় গতকাল ডিবিসি টেলিভিশনের সাংবাদিককে ধাক্কা দিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে নাসির।

১৯৯৮ সালের ৬ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশ সংবাদ পায় চট্টগ্রাম কলেজের শেরে বাংলা ছাত্রাবাসের সামনে শিক্ষকদের পরিত্যক্ত ভবনে তৎকালীন ২৫ মামলার অভিযুক্ত সন্ত্রাসী নাসির আত্মগোপন করে আছে। কক্ষের বাইরে তালা লাগিয়ে নাসিরকে কক্ষের ভেতরে নিরাপদে রাখতো নাসিরের অনুসারীরা। গোয়েন্দা পুলিশ এ তথ্যের সত্যতা পান। এরপর সাদা পোশাকে পুলিশ ভবনের চারপাশে অবস্থান নেন। বিকেল সাড়ে ৪ টায় কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে নাসির জানালা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় তাকে ঝাপটে ধরেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমান চৌধুরী। পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

নাসিরকে আটকের ঘটনা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম নাসিরের অনুসারীদের কাছে। চট্টগ্রাম কলেজের শেরে বাংলা ছাত্রাবাস থেকে শিবির ক্যাডাররা পুলিশকে লক্ষ্য গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পালটাগুলি ছুঁড়ে। সন্ত্রাসী ও পুলিশের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় একাধিক পুলিশ আহত হন। এরপর নাসিরের অনুসারীরা চকবাজারের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সহকারী পুলিশ কমিশনার বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অপর দুই অভিযুক্ত নাসিরের সেকেন্ড ইন কমান্ড দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এয়াকুব ও হুমায়ুন। এ দুইজন নাজিরহাটে পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণের সময় পুলিশের পাল্টাগুলিতে নিহত হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার মামলায় নাসিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০০১ সালের ১৭ নভেম্বর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠনের পর আদালতে ৬ জন সাক্ষ্য দেন। আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
নাসিরের বিরুদ্ধে খুন, গুমসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ৩৬ মামলার মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজা হয়েছে।