ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

কর্ণফুলীতে ব্যালট বাক্সের কাছেই ভোটাররা

রবিউল হোসেন

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার, ০৯:৪৩ পিএম

কর্ণফুলীতে ব্যালট বাক্সের কাছেই ভোটাররা

প্রার্থীদের দিন রাত্রি ছুটে চলা আর ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার পটভূমিতে রোববার  (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে  বহু প্রতিক্ষিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন । উপজেলা ঘোষণা হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে বেশ কয়েকবার। বিশেষ করে তফসিল ঘোষনার পর প্রথবার নির্বাচন পিছানো এবং দ্বিতীয়বার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারন দেখিয়ে বিগত ২০ আগস্টের নির্বাচনের ৭২ ঘন্টা আগে নির্বাচন স্থগিত করা। সবকিছু এখন বড় প্রশ্ন সুষ্ঠু ভোট হবে তো ?

চট্টগ্রাম শহরের পাশেই অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী উপজেলার প্রথম নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে ভোটারদের মধ্যে। প্রথম বারের মতো কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে দলীয় প্রতীকে হওয়াতে। যেখানে জাতীয় রাজনীতি দলীয় প্রতীককে বড় ফ্যাক্টর মানছেন অনেকে। সব জল্পনা কল্পনা শেষ করে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে কারা বিজয়ী হয়ে আসছেন দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামীকাল ২৪ সেপ্টেম্বর ভোটের ফলাফল ঘোষনা পর্যন্ত। ফলাফল ঘোষনার পর জানা যাবে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের তিন জনের অনার বোর্ডে শীর্ষ তালিকায় কারা থাকবেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জুলধা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের অস্থায়ী কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি। কর্ণফুলীকে উপজেলা বাস্তবায়ন করা ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির প্রয়াত পিতা প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্বপ্ন ছিল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে. কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৭৯৯ ভোট। তদ্মধ্যে পুরুষ ৫৩ হাজার ৫৯৯ এবং মহিলা ৫৪ হাজার ২০০ ভোট। ভোট কেন্দ্র ৪০টি। ৩ পদেই দলীয় প্রতীকে অনুষ্টিত হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তিন পদেই দলীয় প্রতীকে আলাদা ব্যালট পেপারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের ফারুক চৌধুরী নৌকা প্রতীকে, বিএনপির এসএম ফোরকান ধানের শীষ প্রতীকে ও ইসলামিক ফ্রন্টের জাহাঙ্গীর কবির রিজভী চেয়ার প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের দিদারুল ইসলাম চৌধুরী নৌকা প্রতীকে, বিএনপির হাজী মুহাম্মদ ওসমান ধানের শীষ প্রতীকে, ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা মুছা মোমবাতি প্রতীক নিয়ে ও ইসলামিক ফ্রন্টের নাছির আহমদ চেয়ারম্যান নিয়ে লড়ছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের বানাজা বেগম নৌকা প্রতীকে, বিএনপির উম্মে শামীমা মিরজান ধানের শীষ প্রতীকে ও জাতীয় পার্টির মুন্নি বেগম লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

ইতিমধ্যে প্রচার প্রচারণা শেষ করেছে প্রার্থীরা। শুক্রবার রাত ১২টায় প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ। কর্ণফুলী উপজেলার প্রথম নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যায় সেটি আলোচনায়। যদিও আওয়ামীলীগ বলছে উপজেলা বাস্তবায়নে তাদের অবদান এবং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে তাদের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন থাকবে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, তাদের পক্ষে রয়েছে ভোটারদের সমর্থন। দেশে যেভাবে যুলুম নির্যাতন চালিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার এর প্রতিবাদ হিসেবে কর্ণফুলীতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।

আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাটা সংস্কার, কর্ণফুলী নদীর ভাঙ্গন রোধ, আদালত স্থাপন, ভূমি অফিস স্থাপন, থানা ভবন, উপজেলা পরিষদ ভবন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খেলার মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্র, সরকারী স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করাই তার প্রধান কাজ।  জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরন করে আধুনিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রেখে গ্রীন উপজেলা গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, মানবতা ও মনুষ্যত্বের জন্য রাজনীতি করা। আর রাজনীতির শেষ নি:শ্বেষ হলো নির্বাচন। ছোটকাল থেকে মানবতার ও বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়। ধাপে ধাপে পটিয়া সরকারী কলেজে তৎকালীন ছাত্রলীগের পাঠাগার সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহ আমানত হলে ছাত্রলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, বড়উঠান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, কর্ণফুলী থানা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং সর্বশেষ দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কর্ণফুলী এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে নানা সংকটে জর্জরিত। এ সংকট থেকে উত্তরনের জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জবেদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নতুন উপজেলা গঠিত হয়েছে। নবসৃষ্ঠ উপজেলার সৃষ্ঠির পেছনে অফিসিয়াল কর্মকান্ডে নিজেও যুক্ত ছিলেন। নবসৃষ্ঠ কর্ণফুলী উপজেলার জনগনের বঞ্চনা ও লাঞ্চনার ইতিহাস থেকে মুক্ত করার জন্য এবং আধুনিক ও উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সুপরিকল্পনা নিয়েছি।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদারুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক পরিবেশে জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাওয়ার লক্ষ্যেই নির্বাচনে অংশ নেয়া। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি থেকে বর্তমানে শিকলবাহা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সমাজের মধ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বঞ্চিত কর্ণফুলী উপজেলার জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরন করা আমার চিন্তা ও চেতনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকাঙ্খার পথিকৃৎ নবসৃষ্ঠ এ কর্ণফুলী উপজেলা। এ এলাকার জনগনের বঞ্চনা ও লাঞ্চনা বুকে ধারনা করে ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জমান জাবেদ গুরুত্বসহকারে নিয়ে উপজেলা কার্যক্রম চালু করে। নতুন উপজেলার অবকাঠামো সৃষ্ঠি করে জনগনের সেবা নেয়ার সুযোগ সৃষ্ঠি করাই আমাদের অন্যতম পরিকল্পনা রয়েছে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বানাজা বেগম নিশি বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে মহিলাদের সংগঠিত করে কাজ করে যাচ্ছি। এ অঞ্চলে নারীদের কল্যানে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার নিজের ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার হিসেবে ইতোমধ্যে দুই দুই বার মহিলা মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি। গতবার পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়েছিলাম। ফলে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় পরিচিতি ও প্রচারের দিকে এগিয়ে রয়েছি।

বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম ফোরকান বলেন, অবহেলিত এ কর্ণফুলীতে রাস্তাঘাটের যে বেহাল দশা তার জন্য পরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সরকারী স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন। কর্ণফুলীকে পরিকল্পিত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাবো। তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থেকে রাজনীতিতে আসা। দেশের উন্নয়ন ও জনগনের সেবা করার জন্য দলের আদর্শ ও পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। নির্বাচিত হলে সরকারী বরাদ্দ সৎ ও সুন্দরভাবে শতভাগ কাজ করে যাবো।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মো. ওসমান বলেন, নির্বাচিত হলে জনগনের আকাঙ্খা পূরন এবং পরিষদকে জনমুখেী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির জন্য পরিকল্পিত প্লাটর্ফম গঠন করে মানবিক উপজেলায় রুপান্তরিত করা হবে। জাতীয়তাবাদের চেন্তা চেতনা থেকে রাজনীতিতে আসা। ছোটকাল থেকে পরিবার শিক্ষা দেয় মানুষের জন্য ও সমাজের জন্য কাজ করার। সে মনমানসিকতা থেকে রাজনীতি করে যাচ্ছি। দলের পতাকা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারনা করে কাজ করে যাচ্ছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তরুণ প্রজন্মের অহংকার তারেক জিয়ার ক্ষুদা ও দরিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে যে লড়াই সংগ্রাম চলছে তার ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে অংশ নেয়া। স্বাধীনতা ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বর্তমান আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্ঠা। তার আদর্শে লালিত হয়ে বঞ্চিত কর্ণফুলীকে পরিকল্পিত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাবো। কর্ণফুলী উপজেলার নাগরিকদের প্রানের প্রতীক ধানের শীষ। এ প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়ায় আমি দলের নেতৃবৃন্দের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সুষ্ঠু, সুন্দর ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন হলে ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত।’