AD
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

সাতকানিয়ায় শিশু জিসান হত্যার নেপথ্যে পাওনা টাকা নাকি অন্য কিছু

সাতকানিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০১৭ সোমবার, ০৮:২৫ এএম
সাতকানিয়ায় শিশু জিসান হত্যার নেপথ্যে পাওনা টাকা নাকি অন্য কিছু হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত আলী (ডানে), ঘটনার দিনে ভাংচুর হওয়া পুলিশের গাড়ি(বামে)।

সাতকানিয়ায় সাত বছরের অবুঝ শিশু মিজানুর রহমান জিসান হত্যার নেপথ্যে নানা প্রশ্ন ধুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মুখে মুখে। যুবলীগ নেতা আলী আহমদের সঙ্গে জিসানের পরিবারের শত্রুতার নেপথ্যে ‘পাওনা টাকা’ বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। আবার অনেকে ভাবছেন অন্য কারণও থাকতে পারে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

শুক্রবার সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়নের দক্ষিণ চরতির অন্নার পাড়ায় যুবলীগ নেতা আলী আহমদ শিশু জিসানকে ডোবার পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। স্থানীয় একটি সূত্র জানায় , আলী আহমদ প্রায় সময় যাওয়া আসা করতো জিসানদের ঘরে। জিসানের বাবা আবুল হাশেম কোন সময় চায়ের দোকানে আবার কোন সময়ে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালান। জিসানের মা আনোয়ারা বিভিন্ন সময়ে আলী আহমদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন। গত কয়েক মাস আগে আলী আহমদ আনোয়ারার কাছে টাকা ফেরৎ চায়। কিন্তু আনোয়ারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে দুই জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর থেকে আনোয়ারার বাড়িতে আলী আহমদের যাওয়া আসা কমে যায়। এরমধ্যে টাকা ফেরৎ না দিলে আনোয়ারার বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দিয়েছিল আলী আহমদ।

জিসানের বাবা আবুল হাশেম বলেন, আলী আহমদ এবং আমার বাড়ি খুবই কাছাকাছি। সে সম্পর্কে আমার প্রতিবেশী ভাতিজা হয়। আলী আহমদ আমাদের ঘরে নিয়মিত আসা যাওয়া করার বিষয়টি সত্য। আবুল হাশেম আরো বলেন, আলী আহমদ কয়েক মাস আগে আমার স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে বলেছিল ছেলে জিসানকে পুকুরে ফেলে দিয়ে হত্যা করবে। কিন্তু এই কথাটি আমার স্ত্রী এতদিন আমাদের বলেনি। তিনি জানান, আলী আহমদ মাছ ধরতে যাওয়ার নাম করে আমার ছেলেকে সাথে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

অপরদিকে, শিশু মিজানুর রহমান জিসান হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার এসআই মাহামুদুল করিম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মামলার বাদি ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেছি। যে ডোবা থেকে শিশু জিসানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানকার পানি পরিমাপ করেছি। এছাড়াও মামলার আসামী আলী আহমদকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। সোমবার  রিমান্ডের আবেদনের শুনানি হবে। রিমান্ডে আবেদন মঞ্জুর হলে আসামী আলী আহমদকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।