AD
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে মেজরসহ ৬ সেনা সদস্য নিহত

রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৬:০৭ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে মেজরসহ ৬ সেনা সদস্য নিহত

বঙ্গোসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে অবিরাম বৃষ্টিতে হওয়া পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে এক মেজর ও এক ক্যাপ্টেনসহ ৬ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মেজরের নাম মাহফুজ ও ক্যাপ্টেনের নাম তানভীর বলে জানা গেছে এবং নিহত চার সেনা সদস্যের মধ্যে দুজন হচ্ছেন শাহিন ও আজিজ।

মানিকছড়িতে পাহাড়ের ওপর থাকা ক্যাম্পে অবস্থান করার সময় পাহাড় ধস হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি সূত্র বলছে, ওই সেনা সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে মারা গেছেন।
এছাড়াও রাঙ্গামাটিতে সোমবার রাতে পাহাড় ধসে কমপক্ষে ২৯ জন মারা গেছে।  ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাওয়া রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন এবং জন সাধারণ। তাদের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে বিভীষিকার ভয়াবহতা।

পাহাড় ধসের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী দিয়ান চাকমা বলেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকারের শব্দে ঘুম ভাঙে। বাইরে বেরিয়ে দেখি সবাই দৌড়া দৌড়ি করছে। এর মধ্যে একটি ঘর উড়িয়ে নিচে নিয়ে গেছে।পাহাড়ের ওপর থেকে অনেক নিচে গিয়ে পড়েছে ঘরটি। এরপর আবার পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে ঘরটি। ওই বাড়িতে থাকা চার জনের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
প্রমিত বলছেন: হঠাৎ-ই বুঝতে পারলেন তারা ঘর নেই। বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ ঘোর কেটে যাওয়ার পর বুঝেতে পারলেন ঝড় তার ঘর উঠিয়ে নিয়ে গেছে! পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অক্ষত থাকলেও ছোটো ভাই আহত। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানেও পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সুমন বড়ুয়ার সন্তান শুভ বড়ুয়া (৮) মিতু বড়ুয়া (৬) লতা বড়ুয়া (৫)। অপর পাহাড় ধসের ঘটনায় কালাঘাটা এলাকায় রেভা ত্রিপুরা (১৯) নামে বান্দরবান সরকারী কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও লেমুঝিরি আগা পাড়ায় পাহাড় ধসে মা-মেয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেন কামরুন নাহার (২৭) সুকিয়া আক্তার (৮)।